1. shahinit.mail@gmail.com : dhaka24 :
  2. arifturag@gmail.com : ঢাকা টোয়েন্টিফোর : ঢাকা টোয়েন্টিফোর
  3. mahbub@gmail.com : mahbub1 :
  4. sasujan83@gmail.com : ঢাকা টোয়েন্টিফোর : ঢাকা টোয়েন্টিফোর
  5. sasujan82@gamil.com : Dhaka 24 : Dhaka 24
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২০, ০৭:০৪ অপরাহ্ন

পাহাড়ি জনপদে ছড়িয়ে পড়ছে শিক্ষার আলো

Reporter Name
  • প্রকাশিত | রবিবার, ১৩ মে, ২০১৮

নিউজ ডেস্ক, রবিবার, ১৩ মে ২০১৮: বদলে যাচ্ছে পাহাড়ি জনপদের দৃশ্যপট। শিক্ষার আলো ছড়িয়ে পড়ছে সর্বত্র। পার্বত্য এলাকার ছেলে-মেয়েরা এখন স্কুলমুখী হয়েছে। পাহাড়ি জনপদের শিশুরা নিজস্ব মাতৃভাষায় লেখাপড়া করছে। স্কুলগুলোতে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর নিজস্ব মাতৃভাষার বই দেয়া হয়েছে। এতে অভিভাবক ও তাদের সন্তানরা লেখাপড়ায় উৎসাহিত হচ্ছে। পাহাড়ি জনপদ এক সময় ছিল পশ্চাৎপদ। বর্তমান সরকারের গৃহীত পদক্ষেপে পাল্টে যেতে বসেছে দৃশ্যপট। উন্নয়নের ছোয়া লেগেছে পাহাড়ে। নির্মিত হচ্ছে নতুন নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পাহাড়ের গা ঘেষে রাস্তাঘাট।

পাহাড়ি জনপদের শিশু চয়ন বৈষ্ণব ত্রিপুরা (৮)। চয়ন রামগড় মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র। প্রতিদিন সকালে সে স্কুল ব্যাগ নিয়ে স্কুলে যায়। স্কুলের পরিবেশ তার খুব ভালো লাগে। স্কুলে লেখাপড়ার পাশাপাশি সমবয়সী বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলা করে সে। স্কুলের স্যার ও ম্যাডামরা তাকে আদর করে পড়ান। পড়াগুলো ভালো করে বুঝিয়ে দেন। এ জন্য সে প্রতিদিন স্কুলে যায়।

অনিকা ত্রিপুরা (৯) বেলছড়িপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রী। অনিকা প্রতিদিন স্কুলে যায়। আগে নিয়মিত স্কুলে যেতো না। কিন্তু এখন যাচ্ছে। বছরের প্রথমদিন বিনামূল্যে নতুন বই পেয়েছে অনিকা। উপবৃত্তিও পাচ্ছে। অনিকার স্কুলটি আগের চেয়ে আরো সুন্দর হয়েছে। স্কুলের স্যার ও ম্যাডামদের পড়ানো তার খুব ভালো লাগে। স্কুলে নিজ মাতৃভাষায় পাঠ্যবই পেয়ে অনিকা খুব খুশি। প্রতিদিন মিড ডে মিল পাচ্ছে। এ জন্য অনিকা এখন প্রতিদিন বন্ধুদের সঙ্গে দলবেঁধে স্কুলে যায়।

যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, স্কুলের অবকাঠামো উন্নয়ন, বিনামূল্যে বই প্রদান, উপবৃত্তি প্রদান, বিদ্যালয়ভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা, আকর্ষণীয় পাঠদান, মিড ডে মিল চালু, শিক্ষকদের আন্তরিকতাপূর্ণ নিবিড় তত্ত্বাবধানের ফলে পাহাড়ি জনপদের শিশুদের বিদ্যালয়মুখী করেছে।

মাত্র কয়েক বছর আগেও পাহাড়ি জনপদের ছেলেমেয়েরা স্কুলের পরিবর্তে সময় কাটাত বনবাদাড়ে, মাঠেঘাটে, গোচারণে, পাহাড়ি দুর্গম জঙ্গলে, কিংবা মা-বাবার কাজে সহযোগিতা করতো, আজ তারাই বিদ্যাপীঠে। সমতল ভূমির পাশাপাশি পাহাড়ি জনপদে প্রাথমিক শিক্ষায় যে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে এটা তার দৃষ্টান্ত।

চারদিকে উঁচুনিচু, ছোটবড় পাহাড় আর পাহাড়। পাহাড়ের গায়ে গড়ে ওঠা বনজঙ্গলই এসব এলাকায় বসবাসকারীদের জীবনজীবিকা। এসব পাহাড়ি জনপদে শিক্ষার হার ছিল অনেক কম। স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঝরেপড়ার হারই ছিল বেশি। এর প্রধান কারণ ছিল- বিদ্যালয় সঙ্কট, শিক্ষক সঙ্কট, অনুন্নত রাস্তাঘাট, দারিদ্র্যতা, কুসংস্কার, অবহেলা-অসচেতনতা, সর্বোপরি শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশের অভাব। সঙ্গত কারণেই প্রত্যন্ত এলাকার বসবাসকারীদের স্বপ্নের মধ্যেও ছিল না তার ছেলে-মেয়ে স্কুলে পড়বে, শিক্ষার আলোয় আলোকিত হয়ে দেশসেবায় নিয়োজিত হবে। ফলে শিশুরা শৈশব থেকেই বিদ্যালয়ের পরিবর্তে বনবাদাড়ে, মাঠে-ঘাটে, গো-চারণে কিংবা পাহাড়ি দুর্গম জঙ্গলে দিনের বেশির ভাগ সময় পার করে দিতো।

এই অবস্থায় এসব এলাকায় শিক্ষার হার বাড়াকে অসম্ভব বলেই ধরে নিয়েছিল এখানকার মানুষ। কিন্তু শত প্রতিকূলতা পেরিয়ে পাহাড়ি জনপদের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিতকরণের এই অসম্ভব কাজটিকে সম্ভব করতে সক্ষম হয়েছে বর্তমান সরকার। মাত্র এক দশক আগেও এ জনপদে যেখানে স্কুলগামী ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ছিল মাত্র হাতেগোনা কয়েকজন, সেখানে এখন বেড়ে প্রায় শতভাগে দাঁড়িয়েছে।

রামগড় উপজেলার ছোট খেদাছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ললিত কিশোর ত্রিপুরা বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে একসাথে এতো বিদ্যালয় কোনো সরকার জাতীয়করণ করেনি। শুধু তাই নয়, জাতীয়করণকৃত ও রেজিস্ট্রার্ড বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শতভাগ ছাত্র-ছাত্রীকে দেয়া হচ্ছে উপবৃত্তি। বছরের প্রথম দিনেই তাদের হাতে দেয়া হয় নতুন বই। প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার জন্য আলাদা কক্ষ, আলাদা শিক্ষক, শিশুতোষ শিক্ষা উপকরণ দেয়া হয় প্রতিবছর। প্রতিটি বিদ্যালয়কে দৃষ্টিনন্দন করে রাখার জন্য প্রতি বছরই ৪০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়, যার মাধ্যমে বিদ্যালয় রঙ করা, ফুল বাগান সৃষ্টি, শহীদ মিনার তৈরি ও পরিচর্যা করা হয়। প্রতি তিন বছরে প্রত্যেক বিদ্যালয়ে মেরামতের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয় ৫০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা। প্রত্যেক বিদ্যালয়েই সরকার নিয়োগ দিয়েছেন একজন নৈশপ্রহরী।

পাহাড়ি জনপদে বেশ কয়েকটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরেজমিন দেখা যায়, স্কুলগুলোতে লেগেছে বাহারি রঙয়ের ছোঁয়া। পুরো বিদ্যালয়ে ভেতর-বাইরে দেয়ালে বিভিন্ন রঙ করা হয়েছে। এর ওপর আঁকা হয়েছে আল্পনা, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ জ্ঞানী ব্যক্তিদের বাণী। স্কুলের সামনে রয়েছে মনোরম ফুলের বাগান ও শহীদ মিনার।

খাগড়াছড়ি জেলার রামগড় উপজেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো. আবদুল হান্নান পাটওয়ারী বলেন, সমতল ভূমির পাশাপাশি পাহাড়ি এলাকাতেও শিক্ষার হার বাড়ছে। বিশেষ করে শিশুশিক্ষার হার উল্লেখযোগ্য। ২০১৫ সালে রামগড়ে জরিপকৃত শিশুর সংখ্যা ছিল নয় হাজার ৪০৮ জন। ভর্তিকৃত শিশুর সংখ্যা ছিল নয় হাজার ৩৭৩ জন। ৩৫ জন প্রতিবন্ধীর কারণে স্কুলে ভর্তি হয়নি। ২০১৬ সালে জরিপকৃত শিশুর সংখ্যা নয় হাজার ৪৬৯ জন। ভর্তিকৃত শিশুর সংখ্যা নয় হাজার ৪৩০ জন। ৩৯ জন প্রতিবন্ধী হওয়ায় স্কুলে ভর্তি হতে পারেনি। ২০১৭ সালে জরিপকৃত শিশুর সংখ্যা ১০ হাজার ২৭ জন। ভর্তিকৃত শিশুর সংখ্যা ১০ হাজার পাঁচজন। ২২ জন প্রতিবন্ধী হওয়ার কারণে ভর্তি হয়নি।

বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ, উপবৃত্তি প্রদান, পাহাড়ি জনপদের নিজস্ব মাতৃভাষায় পাঠ্যবই হাতে পেয়ে শিশুরা দারুণ খুশি। এসব সুযোগ-সুবিধা থাকায় শিশুরা নিয়মিত স্বেচ্ছায় স্কুলে আসছে। বর্তমান সরকারের এসব বিদ্যালয়ভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনার কারণে স্কুলে শিশুর সংখ্যা বাড়ছে। ভর্তি বহির্ভুত শিশুর সংখ্যা প্রায় শূন্যের কোটায় নেমে যাচ্ছে। পাশাপাশি ঝরেপড়া শিক্ষার্থীর হার অনেক কমেছে।

সরেজমিন দেখা যায়, পাহাড়ি জনপদের কোনো কোনো এলাকায় অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, বাসস্থান থেকে বিদ্যালয়ের অধিক দূরত্ব, বিদ্যালয়ে শিক্ষক স্বল্পতা, অনাকর্ষণীয় পাঠদান, দারিদ্র্যতা, অভিভাবকদের অসচেতনতা, কুসংস্কার ইত্যাদি সমস্যা এখনো বিদ্যমান। এসব সমস্যা সমাধান হলে পাহাড়ি জনপদে শিক্ষার হার শতভাগে পৌঁছতে বেশি সময় লাগবে না।

পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা ঘুরে প্রায় একই চিত্র দেখা যায়। পাহাড়ি জনপদে বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড কর্তৃক মাতৃভাষায় পাঠ্যবই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দিলেও অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই নেই ওই ভাষার শিক্ষক। আবার অনেক বিদ্যালয়ে শিক্ষক থাকলেও নেই ওই ভাষায় পাঠদানের প্রশিক্ষণ। ফলে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায়ের মাতৃভাষায় পাঠ্যবই পাঠদান কিছুটা হলেও ব্যাহত হচ্ছে। এই সব ছোটখাটো সমস্যা দূর হলে পাহাড়ি জনপদে শতভাগ শিক্ষার আলো ঘরে-ঘরে ছড়িয়ে পড়বে।

আরো সংবাদ পড়ুন
© All rights reserved &copy | 2016 dhaka24.net
Theme Customized BY WooHostBD