রবিবার | ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং |

মাথা নামিয়ে মাঠ ছাড়ছেন; ৪০ বছর পর প্রথম ম্যাচে জয়হীন ব্রাজিল

মাথা নামিয়ে মাঠ ছাড়ছেন মার্সেলো। পিছনে মিরান্ডা, থিয়াগো সিলভা। তাদের পিছনে কুতিনহো। সবশেষে নেইমার।

স্পোর্টস ডেস্ক,সোমবার,১৮ জুন ২০১৮:
মুখে হাসি নেই,বিষন্ন, বিপর্যস্ত! অন্যদিকে উল্লসিত সুইজারল্যান্ড শিবির। উচ্ছ্বাস তাঁদের চোখে-মুখে। বোঝাই যাচ্ছিল বড় কিছু অর্জন করেছেন তাঁরা। উৎসব সুইস গ্যালারিতেও। না, ব্রাজিল হারেনি। জিতেনি সুইজারল্যান্ডও। ১-১ গোলে ড্র দুই দলের ম্যাচে মাথা নামিয়ে মাঠ ছাড়ছেন ব্রাজিল। কিন্তু এমন ড্র হারের সমান ব্রাজিলের, জয়ের সমান সুইজারল্যান্ডের! তাইতো রেফারি চেসার রামোসের শেষ ফুকের সঙ্গে সঙ্গে ৪৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতা সম্পন্ন রোস্টভ-অন-ডন স্টেডিয়াম উল্লাসে মেতে উঠে। সুইসদের আনন্দে আড়াল হয়ে যায় ব্রাজিলিয়ানদের হতাশা।

রাশিয়া বিশ্বকাপে ব্রাজিলকে হট ফেভারিট মানছিল সবাই। তাদের ওপর প্রত্যাশা ছিল আকাশচুম্বি। কিন্তু প্রথম ম্যাচেই হোচট খেল নেইমার, মার্সেলো, কুতিনহোরা। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রত্যাশিত জয় না পাওয়ায় বড় আক্ষেপ তাদের।

ম্যাচের শুরু থেকেই দাপট ধরে রেখেছিল ব্রাজিল। ১১ মিনিটে পাওলিনিয়োর শট ফিরিয়ে দেন সুইস গোল রক্ষক। এরপর নেইমার, জেসুসদের সাজানো আক্রমণগুলো বারবার ফিরে আসছিল সুইজারল্যান্ডের রক্ষণ দূর্গ থেকে। ছোট পাসে কাজ না হওয়ায় ফিলিপ কুতিনহো বড় শটের পরিকল্পনা নেন। প্রথম শটেই সাফল্য। ২০ মিনিটে ডি বক্সের বাইরে থেকে কোনাকুনি শটে বল জালে পাঠান কুতিনহো। ২৬ বছর বয়সি বার্সেলোনার এ মিডফিল্ডারের শট ঝাপিয়েও বাঁচাতে পারেননি গোল রক্ষক।

বক্সের বাইরে থেকে ব্রাজিলের গোলের রেকর্ড বেশ ঈর্ষণীয়। ১৯৬৬ বিশ্বকাপের পর বক্সের বাইরে থেকে ব্রাজিল মোট ৩৭ গোল করেছে। অন্যান্য দলগুলোর থেকে ১১ গোল বেশি সেলেকাওদের।

কুতিনহোর গোলে লিড নিয়ে বিরতিতে যায় ব্রাজিল। বিরতিতে একটি পরিসংখ্যান ব্রাজিলকে বেশ আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছিল। প্রথমার্ধে লিড নেওয়া শেষ ৩৫ ম্যাচের ৩৪টিই জিতেছিল ব্রাজিল। গতকাল ব্যর্থতার তালিকায় যোগ হলো আরেকটি সংখ্যা।

ম্যাচের ৫০ মিনিটে ‍সুইজারল্যান্ডকে সমতায় ফেরান স্টিভেন জুভের। জেরদার শাকিরির নেওয়া কর্ণার কিক থেকে হেড দিয়ে বল লক্ষ্যভেদ করেন ২৬ বছর বয়সি জুভের। জুভের জাতীয় দলের হয়ে শেষ ৬ ম্যাচের ৬টি গোলেই সরাসরিভাবে অবদান রেখেছেন। ৬ ম্যাচে ৪টি গোল নিজে করেছেন। অ্যাসিস্ট করেছেন ২টি।

এরপর মুহুমুহু আক্রমণে সুইস রক্ষণ দূর্গ ব্যস্ত রাখে ব্রাজিল। কিন্তু শেষ হাসিটা হাসতে পারেনি। নেইমারের হেড, মার্সেলোর শট ফিরিয়ে দেন গোলরক্ষক। কুতিনহো ও পাওলিনহোর শট বেরিয়ে যায় গোল পোস্টের ওপর দিয়ে। কোনোভাবেই সুইস জাল খুঁজে পাচ্ছিল না পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

ম্যাচ ড্র হলেও রেফারির একটি সিদ্ধান্তে হতাশ করেছে ব্রাজিলিয়ানদের। ৭৩ মিনিটে নেইমারের বাড়ানো পাসে বল নিয়ে ডি বক্সে ঢুকেন জেসুস। তাকে আটকে রাখেন আকিনঝি। এক পর্যায়ে পড়েও যান জেসুস। নিশ্চিত ফাউল চোখ এড়িয়ে যায় মেক্সিকান রেফারি চেসার রামোসের। ব্রাজিলের খেলোয়াড়রা ভিডিও এসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভার) প্রযুক্তির আবেদন করলেও তা নাকোচ করে দেন প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে ম্যাচ পরিচালনা করতে নামা চেসার রামোস।

রেফারির সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া ছাড়া ওই সময়টায় কিছু করার ছিল না ব্রাজিলের। শেষ পর্যন্ত ওই আক্ষেপই হয়তো করছে তিতের শিষ্যরা।

১৯৭৮ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে জিতেনি ব্রাজিল। সেবারও সুইডেনের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করেছিল সেলেকাওরা। এরপর নয়টি বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই জয় ছিল ব্রাজিলের। কিন্তু এবার পারল না নেইমাররা। হেক্সা মিশনে রাশিয়ায় আসা ব্রাজিল ঘুরে দাঁড়াতে পারবে তো?

fb-share-icon35
fb-share-icon20

Enjoy this blog? Please spread the word :)