সোমবার | ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং |

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর তিন সুপারিশ

নিউজ ডেস্ক,সোমবার,২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮:
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সোববার জাতিসংঘ সদর দপ্তরে শরণার্থী বিষয়ক বৈশ্বিক প্রভাব শীর্ষক এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট চিরতরে সমাধানের লক্ষ্যে বিশ্বনেতাদের সামনে তিন দফা সুপারিশ উপস্থাপন করেছেন।

প্রথম দফা সুপারিশে শেখা হাসিনা বলেন, মিয়ানমারকে অবশ্যই বৈষম্যমূলক আইন ও নীতি বিলোপ, এবং রোহিঙ্গাদের প্রতি নিষ্ঠুরতা বন্ধ ও তাদের সে দেশ থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করতে হবে।

দ্বিতীয় সুপারিশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারকে অবশ্যই সকল রোহিঙ্গার নাগরিকত্ব প্রদানের সঠিক উপায়, নিরাপত্তা নিশ্চিত ও আস্থার পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। প্রয়োজনে বেসামরিক নাগরিকদের রক্ষায় মিয়ানমারের ভেতরে ‘নিরাপদ অঞ্চল’ তৈরি করতে হবে।

তৃতীয় সুপারিশে তিনি বলেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নৈরাজ্য রোধে অপরাধীদের জবাবদিহিতা, বিচার, বিশেষ করে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশনের সুপারিশমালার আলোকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে।

জাতিসংঘ মহাসচিব এন্তোনিও গুতেরেজের উপস্থিতিতে জাতিসংঘের উদ্বাস্তু বিষয়ক হাইকমিশনার ‘শরণার্থী বিষয়ক বৈশ্বিক প্রভাবের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক : এ মডেল ফর গ্রেটার সলিডারিটি এ্যান্ড কো-অপারেশন’ শীর্ষক এ বৈঠকের আয়োজন করে।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা রোহিঙ্গাদের মৌলিক চাহিদা পূরণ করে যাচ্ছি, যা আমাদের জন্য মারাত্মক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা তাদের জন্য ৬ হাজার একরের বেশি জমি বরাদ্দ দিয়েছি।

প্রাধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকট মিয়ামার সরকারই তৈরি করেছে এবং মিয়ানমারকে এর সমাধান খুঁজে বের করতে হবে। তিনি বলেন, দায়িত্বশীল সরকার হিসেবে আমরা মিয়ামার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার জন্য আমরা আমাদের সীমান্ত খুলে দিয়েছি। এটা করে আমরা শুধু তাদের জীবন রক্ষা করিনি বরং আমরা আমাদের সীমান্ত সুরক্ষিত করে পুরো অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রেখেছি।

রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘কম্প্যাক্ট অন রিফিউজি’ এমন সময় গ্রহণ করা হলো যখন সারা বিশ্ব মারাত্মক শরণার্থী সংকট মোকাবেলা করছে। যে সব দেশ শরণার্থীদের বোঝা কাঁধে নেয় বিশ্বের উচিত তাদের এ অবদানকে স্বীকৃতি দেয়া এবং বিশ্ব নেতৃবৃন্দকে অবশ্যই রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও প্রতিশ্রুতি দিতে হবে।

সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রী বলেন, শরণার্থী সংকট সমাধানে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও স্থায়ীভাবে ফেরত নেয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

উল্লেখ্য, গত বছরের অগাস্ট থেকে মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে দেশটির সেনা অভিযানে নিপীড়নের মুখে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

fb-share-icon35
fb-share-icon20

Enjoy this blog? Please spread the word :)