শনিবার | ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং |

প্রেম করে বিয়ের পর এত নির্যাতন!

কুষ্টিয়ায় সংখ্যালঘু পরিবারের এক কলেজছাত্রীকে ধর্মান্তরিত করে বিয়ে করার পর মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়েছে। স্ত্রীর নগ্ন ছবি ও নিজেদের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও গোপনে ধারণ করে তা ফেসবুকের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতারক স্বামীর বিরুদ্ধে।

একের পর এক প্রাণনাশের হুমকিতে অতিদরিদ্র পরিবারের ওই কলেজছাত্রীর পড়ালেখা বন্ধ হয়ে গেছে। মেয়েটির পরিবারও এলাকায় একঘরে হয়ে পড়েছে। জীবন বাঁচাতে রোববার সন্ধ্যায় ওই ছাত্রী প্রতারক স্বামীর বিরুদ্ধে কুষ্টিয়া মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত।

প্রতারণার শিকার ওই ছাত্রী কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের বি.বি.এ ১ম বর্ষে অধ্যায়নরত।

ওই ছাত্রীর অভিযোগ থেকে জানা গেছে, প্রায় চার বছর আগে কুষ্টিয়া পৌর এলাকার জুগিয়া হাট পাড়ার রফিকুল ইসলামের ছেলে নাজমুল হোসেন তাকে উত্যক্ত করত।

নাজমুল তখন সংখ্যালঘু হিসেবে নিজের পরিচয় দেয়। এক পর্যায়ে নাজমুলের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০১৫ সালের ২৪ নভেম্বর নাজমুল মেয়েটিকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বটতৈল এলাকার স্থানীয় এক কাজীর কাছে নিয়ে নিয়ে যায়।

এ সময় নাজমুল জানায়, সে মুসলমান, মেয়েটিকেও মুসলমান হতে হবে। মুসলমান পরিচয় জানতে পেরে ওই ছাত্রী নাজমুলকে বিয়ে করতে এবং ধর্মান্তরিত হতে অস্বীকৃতি জানায়। এ সময় নাজমুল এবং তার সঙ্গে থাকা ৩-৪ জন ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক আগে থেকে সম্পন্ন করে রাখা দুইটি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নেয় এবং নোটারী পাবলিক দিয়ে মুসলমান হিসেবে হলফ নামা করে এবং তাকে বিয়ে করে।

বিয়ের কাবিন নামায় ওই ছাত্রীর বাবার প্রকৃত নাম পাল্টে লেখা হয় শেখ ইমতিয়াজ আলী এবং মায়ের নাম লেখা হয় আফরোজা বেগম মালা। এক পর্যায়ে ওই ছাত্রী এবং তার দরিদ্র্য পরিবার বিয়ে মেনে নিতে বাধ্য হয় এবং নাজমুলের সঙ্গেই সংসার শুরু করে। কিন্তু বিয়ের এক-দেড় বছর পর মেয়েটি জানতে পারে নাজমুল বিবাহিত, তার দুটি সন্তান রয়েছে এবং সে ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।

এ সব বিষয়ে নাজমুলকে জিজ্ঞাসা করলে মেয়েটিকে চরম শারীরিক নির্যাতন শুরু করে। গত ২৬ জুন মেয়েটিকে কৌশলে জেলার মিরপুর উপজেলার বহলবাড়ীয়া সাতবাড়ীয়া মাঠে নিয়ে এলোপাথাড়ী চড়-থাপ্পড় মারে। এক পর্যায়ে পকেটে থাকা কেচি দিয়ে তার মাথার চুল কেটে দেয় নাজমুল। এ সময় তার চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে নাজমুল পালিয়ে যায়।

নির্যাতিতা ছাত্রী বলেন, নাজমূল প্রতারণা করে আমাকে বিয়ে করে। এরপর থেকে নানা ভাবে অত্যাচার-নির্যাতন চালিয়ে আসছে। আমার বড় বড় চুল সে কেটে দিয়েছে। আমাদের শারীরিক সম্পর্কের দৃশ্য গোপনে ভিডিও করে আমারই ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে সে আপলোড করেছে।

তিনি জানান, ভয়ভীতির কারণে এতদিন অভিযোগ দিতে পারেননি। এলাকায় বিচার চেয়ে পাননি। তাই মামলা করেছেন।

ছাত্রীর মা অভিযোগ করে বলেন, তাদেরকে না জানিয়ে কাগজপত্রে মুসলিম হিসেবে নাম লেখা হয়েছে। বিষয়টি বড় ধরনের প্রতারনা। মেয়েসহ তারা কোথাও মুখ দেখাতে পারছেন না।

কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি নাসির উদ্দিন বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর থেকেই পুলিশ বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। তদন্তপুর্বক দোষীকে গ্রেফতার করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় আনা হবে।

পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত বলেন, বিষয়টি খুবই স্পর্শকাতর। দোষীকে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

 

মেঘনায় লঞ্চ-কার্গো সংঘর্ষে বেঁচে গেল দুই শতাধিক যাত্রী / মুহূর্তেই ডুবে গেল: ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন….

 

fb-share-icon35
fb-share-icon20

Enjoy this blog? Please spread the word :)