সোমবার | ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং |

ভিডিও কনফারেন্সে শেখ হাসিনা; নৌকা বিজয়ী করুন


নিউজ ডেস্ক | শুক্রবার,২৮ ডিসেম্বর ২০১৮ :

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মানুষ শান্তি চায়। এ নির্বাচনও শান্তিপূর্ণ হবে। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে এবং সবার অংশগ্রহণে অর্থবহ হবে। আমি আশা করি, ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে বাংলার জনগণ নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আবার একটি বিজয় নিয়ে আসবে। আমি বিশ্বাস করি, জনগণ নৌকায় ভোট দেবে এবং আমরা আবার বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করব।

তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত মিলে ১ থেকে ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে আওয়ামী লীগের পাঁচ নেতাকর্মীকে হত্যা করেছে; ৪৪১ জনকে আহত করেছে। আওয়ামী লীগের ১৭০টা অফিস-বাড়িঘর ভাঙচুর করেছে, ৫৪ স্থানে বোমা হামলা করেছে। পেট্রলবোমা হামলা চালানো হয়েছে। ৬৮টি স্থাপনা ও যানবাহনে হামলা করেছে তারা। পুলিশকেও বাদ রাখেনি।

গতকাল বৃহস্পতিবার নির্বাচনী প্রচারণার শেষ দিনে ঢাকায় সুধা সদন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে টাঙ্গাইল, কুমিল্লা, যশোর, পাবনা ও পঞ্চগড়ে নির্বাচনী সভায় বক্তব্য দেন শেখ হাসিনা। কনফারেন্সের শুরুতে কুমিল্লার সঙ্গে যুক্ত হন তিনি। প্রার্থীদের নিজ নিজ এলাকায় চলে যাওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। এ সময় নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোটের চরিত্রটা বদলাতে হবে। কারণ এ সন্ত্রাসী কর্মকা- বাংলাদেশের মানুষ কখনো পছন্দ করে না। সবাইকে অত্যন্ত সজাগ থাকতে হবে। এ ধরনের সন্ত্রাসী কাজ যদি কেউ করতে আসে, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার হাতে তাদের তুলে দিতে হবে।

বিএনপি-জামায়াতের সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, এদের চরিত্রটাই হলো সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, অস্ত্র চোরাকারবারিসহ নানা অপকর্মে লিপ্ত থাকা। ২০১৩, ২০১৪ ও ২০১৫ সালে এরা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মানুষ মেরেছে। মসজিদে আগুন দিয়েছে, পবিত্র কোরআন শরিফ পুড়িয়েছে। এরা করেনি এমন কোনো কাজ নেই। তারা ধ্বংস করতে জানে। তারা জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করেছে, বাংলাভাই সৃষ্টি করেছে।

জঙ্গি দমনে আওয়ামী লীগ সরকারের সফলতার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা বাংলাদেশ থেকে জঙ্গি-সন্ত্রাস, মাদক দূর করে মানুষের জীবনে শান্তি ও নিরাপত্তা দিতে চাই। দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

জাতির পিতার কন্যা হিসেবে গর্ব অনুভব করি
আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, প্রধানমন্ত্রিত্ব নয়, জাতির পিতার কন্যা হিসেবেই গর্ব অনুভব করি। এ পদ কীভাবে উপভোগ করব সেই চিন্তা করি না। মানুষের কল্যাণে নিজেকে কতটুকু নিয়োজিত করতে পারলাম, আমার কাছে সেটাই বিবেচ্য।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সরকারের মেয়াদের শেষ কর্মদিবসে প্রধানমন্ত্রী তেজগাঁওয়ে তার কার্যালয়ের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে এসব কথা বলেন। কর্মচারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনাদের কাছে আবেদন একটাই থাকবে দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবেন। কারণ, আপনারা সরকারি কর্মচারী। আপনাদের বেতন-ভাতা বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের ট্যাক্সের টাকাতেই হয়। কাজেই তাদের সেবা ও কল্যাণ করা আপনাদের দায়িত্ব।

বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, প্রধানমন্ত্রিত্ব, এটা একটা দায়িত্ব পেয়েছি। কাজ করার সুযোগ পাই এর মাধ্যমে। দেশের কল্যাণ করার সুযোগ পাই। সেটাই আমার কাছে বড়। ১০ বছর একটানা থাকায় অনেক কাজ করে যেতে পেরেছি। এখনো বহু কাজ বাকি। সেটাও নির্ভর করে বাংলাদেশের জনগণের ওপর। আগামী ৩০ তারিখ যদি তারা ভোট দেয়, তাহলে আবার আসতে পারব এবং কাজগুলো শেষ করতে পারব। তা না হলে মানুষের ভাগ্য মানুষ বেছে নেবে। এখানে আমার কোনো ক্ষোভ বা দুঃখ নেই। কেননা, আমার নিজের জীবনে চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই।

শেখ হাসিনা আরও বলেন, আমার সৌভাগ্য, আমরা দ্বিতীয়বার আসতে পেরেছি। তাই আমাদের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো আজ দৃশ্যমান হয়েছে। আমাদের শাসনামলে গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত মানুষের জীবনমানের পরিবর্তন হয়েছে। উত্তরবঙ্গে বহুবার সফর করেছি কিন্তু এবার যখন উত্তরবঙ্গে গেলাম তাদের জীবনমানের ব্যাপক পরিবর্তন লক্ষ্য করেছি।
আগামীতে অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বাংলাদেশকে গড়ে তোলার প্রত্যয় জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ধনী-দরিদ্রের ভেদাভেদটা থাকবে না। আয় বৈষম্য কমিয়ে এনে সবাই যেন ভালোভাবে বাঁচতে পারে, সেই ব্যবস্থাটাই আমরা করতে চাই। এ সময় কবি সুকান্তের কবিতার উদ্ধৃতি দেন তিনি ‘চলে যাবো, তবু যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ/ প্রাণপণে পৃথিবীর সরাবো জঞ্জাল/এ বিশ্বকে শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি/নবজাতকের কাছে এই আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।’

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান। উপস্থিত থেকে বক্তব্য ও অনুভূতি ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক মো. আবুল কালাম আজাদ, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসান, মহাপরিচালক বেগম নাসরিন আফরোজ, প্রেস সচিব ইহসানুল করিম, এসএসএফের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মুজিবুর রহমান, প্রটোকল অফিসার খুরশীদ আলম, সহকারী পরিচালক মো. মকবুল হোসেন।

আইএসআইয়ের কাছ থেকে ঘুষ নিচ্ছে বিএনপি : জি-নিউজকে শেখ হাসিনা
আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপির সহায়তায় পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে। তবে তিনি আশা করছেন, বিএনপিকে প্রত্যাখ্যান করে জনগণ আবারও আওয়ামী লীগ সরকারকে ক্ষমতায় আনবে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জি-নিউজকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেছেন।

একান্ত সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, কেবল পাকিস্তান আর আইএসআইকে কেন দোষ দেব? দোষ যদি দিতেই হয়, সেটা বিএনপিকে দিতে হবে। দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো ধ্বংস করতে বিএনপি আইএসআইয়ের কাছ থেকে ঘুষ ও অর্থ নিচ্ছে। দেশের প্রতি, দেশের মানুষের প্রতি তাদের কোনো ভালোবাসা নেই। দেশের কোনো উন্নতি চায় না তারা।

বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে একাত্তরে যুদ্ধাপরাধ সংঘটনের অভিযোগ আছে বলেও উল্লেখ করেছেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, তারা একাত্তরের পরাজিত শক্তি। তারা একাত্তরের যুদ্ধাপরাধ ও ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলায় অভিযুক্ত। তাদের প্রত্যাখ্যান করে দেশের জনগণ আমাদের ক্ষমতায় এনেছে। তারা দেশের মানুষকে খুন করেছে, বুদ্ধিজীবীদের খুন করেছে। মানুষ এসব কথা ভোলেনি। ভোটের ব্যাপারে তারা খুবই সচেতন। আবারও তারা বিএনপিকে প্রত্যাখ্যান করতে যাচ্ছে। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী।

fb-share-icon35
fb-share-icon20

Enjoy this blog? Please spread the word :)