শুক্রবার | ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং |

আমবাড়ি বহুমুখি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের গাফিলতিতে ভেস্তে যাচ্ছে শিক্ষার মান

নিজস্ব প্রতিবেদক | শুক্রবার,০৫ জুলাই ২০১৯: দিনাজপুর জেলার অন্তর্গত পার্বতীপুর, চিরিরবন্দর ও ফুলবাড়ি উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকার সু পরিচিত এলাকা আমবাড়ি বাজার। এই এলাকায় গড়ে উঠা সর্ববৃহৎ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে আমবাড়ি বহুমুখি উচ্চ বিদ্যালয়। কিন্তু অত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে প্রধান শিক্ষক এবং সাবেক কমিটির কতিপয় সদস্যদের আতাত ও গাফিলতিতে শিক্ষার মান এখন অতি নিম্নমানের হচ্ছে বলে লিখিত অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়:

তারিখঃ০৩/০৭/২০১৯
বরাবর,
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা
পার্বতীপুর উপজেলা,
ও সভাপতি,
আমবাড়ি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়।
পার্বতীপুর, দিনাজপুর।

বিষয়ঃ অভিযোগ পত্র।

জনাব,
যথা বিহিত সম্মান প্রদর্শন পূর্বক নিবেদন এই যে, আমি নিম্ন স্বাক্ষরকারী এই মর্মে অভিযোগ করছি যে, দিনাজপুর জেলার অন্তর্গত পার্বতীপুর, চিরিরবন্দর ও ফুলবাড়ি উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকার সু পরিচিত এলাকা আমবাড়ি বাজার।

এই এলাকায় গড়ে উঠা সর্ববৃহৎ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে আমবাড়ি বহুমুখি উচ্চ বিদ্যালয় এর নাম রয়েছে। কিন্তু অত্র প্রতিষ্ঠানটিতে প্রধান শিক্ষক এবং সাবেক কমিটির কতিপয় সদস্যদের আতাত ও গাফিলতিতে শিক্ষার মান এখন অতি নিম্নমানের।

শুধু তাই নয়, বর্তমান প্রধান শিক্ষক জগবন্ধু রায় তেলবাজী করে প্রধান শিক্ষক হওয়ায় পূর্বের কমিটির সদস্যদের সাথে আতাত করে চলার কারনে মান সম্মত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত এই এলাকার
কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। মেধাহীন হয়ে যাচ্ছে অনেক তরতাজা মেধাবী মুখ। সচেতন পরিবার মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন এবং অনিহা প্রকাশ করছেন এই বিদ্যালয়ে তাদের সন্তানদের ভর্তি করতে।

দীর্ঘদিন থেকে এলাকাবাসী এই বিধিবামচতুর প্রধান শিক্ষক জগবন্ধু রায়কে শিক্ষার মান ও পরিবেশ ফিরিয়ে আনার তাগিত দিলেও তিনি কোন কর্ণপাত না করেই মনগড়া ভাবে চালিয়ে যাচ্ছেন অত্র প্রতিষ্ঠান। এতে করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে এবং অপরদিকে শিক্ষার্থীরা সঠিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

উল্লেখ্য, অত্র প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে পকেট কমিটি গঠন হয়ে আসছে। নাম সর্বস্ব নির্বাচন করে ঘুরে ফিরে তারাই কমিটি গঠন করেন এবং সেই সাথে প্রতিষ্ঠানের নামে নামিয় সম্পত্তি বিভিন্নভাবে কমিটির সদস্যরা ভোগ দখল করে আসছে অবৈধভাবেই। যা তদন্ত করলে এছাড়া আরো অনেক অজানা তথ্যসহ বেরিয়ে আসবে নজিরবিহীন প্রকৃত সত্য ঘটনা।

প্রকাশ, কমিটিতে দক্ষ লোকজন আসার কথা শুনলেই এই পকেট কমিটি গুলো তৈরি করেন চতুর প্রধান শিক্ষক জগবন্ধু রায় ঘুরিয়ে ফিরিয়েই। এদিকে অত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এর কোন আয়ন ব্যয়ন হিসাব কাউকেই দিতে নারাজ এই পূর্বের কমিটি ও প্রধান শিক্ষক।

সম্প্রতি ও দীর্ঘদিন ধরেই অত্র প্রতিষ্ঠানের নামীয় সম্পত্তি অবৈধভাবে সাবেক কমিটির কয়েকজন সদস্যকে নাম মাত্র টাকার বিনিময়ে তাদের নামে লিজ দেয় উক্ত কমিটিই ও প্রধান শিক্ষক নিয়ম বহির্ভূত ভাবে। কিন্তু উক্ত টাকা স্কুলের একাউন্টে জমা না করে পুরো টাকাই আত্মসাৎ করেন সঙ্ঘবদ্ধভাবে এই পূর্বের কমিটি ও প্রধান শিক্ষকের কুচক্রী মহলটি।

পূর্বের কমিটি গুলো একইভাবে এই প্রতিষ্ঠানকে আয়ের উৎস হিসেবে তারা ভোগ দখল করে খেয়েছেন। সেই ধারা অব্যাহত রেখেছেন পূর্বের সকল কমিটিই। যা প্রকৃত তদন্তে বেরিয়ে আসবে অনেক অজানা তথ্য।

এছাড়া প্রতিষ্ঠান কর্তৃক অর্জিত সম্পদ এবং অর্থ প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে খরচ না করে কিংবা প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত একাউন্টে জমা না করে লোপাট করেছেন এই প্রধান শিক্ষক ও বিভিন্ন সময়ের বিলুপ্ত কমিটির সদস্যরাই। যা খতিয়ে দেখলে এছাড়াও অনেক থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে।

প্রকাশ, অত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনের আগে দাতা সদস্য নেওয়ার কথা থাকলেও তারা নিজেদের মত করে পূর্বের দাতা সদস্যদের বাহিরে অন্য কাউকে আর অন্তর্ভুক্ত করেন নাই এবং করবেন না বলেও প্রকাশ করে তড়িঘড়ি করে নির্বাচনের আয়োজন করছেন। সরকারি নিয়ম নীতিকে বৃদ্ধাগুলি দেখিয়ে পূর্বের পকেট কমিটি ও এই প্রধান শিক্ষক দাতা সদস্য নির্বাচন করেছেন কোন প্রক্রিয়ায় তা এলাকাবাসী বোধগম্য নয়। অনেকের ইচ্ছা থাকা সত্বেও কেউ দাতা সদস্য হওয়ার সুযোগ পান নাই বা পাচ্ছেন না৷ পরবর্তীতে অনেকেই ইচ্ছা পোষণ করলে সংস্লিষ্ট প্রধান শিক্ষক জানান দাতা সদস্য অন্তর্ভুক্ত সময় শেষ। কিন্তু কোন প্রচার প্রচারনা ছাড়াই ঘুরে ফিরে পূর্বের ঐ সকল দাতা সদস্যরাই বলবৎ রয়েছেন। নতুন কোন সদস্যই নেন নাই তারা। যে সকল দাতা সদস্য নিয়েছেন তারা কারা এবং তাদের অন্তর্ভুক্ত করার সঠিক নিয়ম মানা হয়েছে কি না তাও খতিয়ে দেখার অনুরোধ করা যাচ্ছে।

আরো প্রকাশ, পূর্বের পকেট কমিটির সদস্যরাই তাদের পরিবারের সদস্যদের টাকা জমা দিয়ে ভোট সংখ্যা বাড়ানোর মানষেই তারা নিজেদের টাকা জমা দিয়ে দাতা সদস্য হয়েছেন নিজেরাই। এই অনিয়মকেও তারা নিয়মে পরিনত করেছেন। এতে এই নামধারী দাতা সদস্য চক্রের প্রধান কাজ- তারা তাদের মধ্যেই ম্যানেজিং কমিটি কুক্ষিগত করে রাখবেন। যাতে করে তাদের নিয়ন্ত্রনেই থাকে এই রাঘোব বোয়ালদের খোরাক হিসেবে আমবাড়ি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়টি।

তাই আপনার কাছে অনুরোধ, এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান ফিরিয়ে আনতে এবং সকল সম্পত্তি লোপাট এর হাত থেকে রেহাই পেতে অনতিবিলম্বে সুষ্টু তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত সত্য ঘটনা উৎঘাটন পূর্বক প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ও যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে সকল পাওনা ও আত্মসাৎকৃত সমূদয় অর্থ আদায় করে এবং সুষ্ঠুভাবে শিক্ষার মানসহ প্রতিষ্ঠানের মান বজায় রাখতে মান সম্মত একটি ম্যানেজিং কমিটি গঠনের জন্য নতুন দাতা সদস্য অন্তর্ভুক্তের মধ্যমে সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে জনাবের মর্জি হয়।

নিবেদক
মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিক
আমবাড়ি বাজার, দিনাজপুর।
মোবাইল নাম্বার: ০১৭৭৭২৮২৭৭৭

সদয় অবগতি ও প্রয়োজনীয় যথাযথ ব্যবস্থা অতিদ্রুত গ্রহণের জন্য প্রেরিত হইলোঃ

১) মাননীয় শিক্ষা মন্ত্রী, বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা।
২) মাননীয় সচিব, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা।
৩) জেলা প্রশাসক, দিনাজপুর।
৪) চেয়ারম্যান, দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড, দিনাজপুর।
৫) সচিব, দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড, দিনাজপুর।
৬) জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, দিনাজপুর।
৭) সমন্নয়ক, দুর্নীতি দমন কমিশন, দিনাজপুর জেলা শাখা, দিনাজপুর।
৮) উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, পার্বতীপুর, দিনাজপুর।
৯) ডি জি এফ আই, দিনাজপুর।
১০) গোয়েন্দা সংস্থা, অন্ধহাফেজ মোড়, দিনাজপুর।
১১) জেলা প্রেসক্লাব ও পার্বতীপুর প্রেসক্লাব।

fb-share-icon35
fb-share-icon20

Enjoy this blog? Please spread the word :)