মঙ্গলবার | ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং |

১০৩ টাকায় পুলিশে চাকুরি

কুষ্টিয়া | রবিবার, ৭ জুলাই ২০১৯:
লাখ লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে আর মামা-খালুর জোর না থাকলে পুলিশে চাকুরি পাওয়া যায় না এমন কথা লোকমুখেই প্রচলিত। তবে এবারে তার সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে কুষ্টিয়ায় পুলিশ কনস্টেবল পদে ৭৫ জনের চাকুরি দিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। তবে একেবারে বিনে পয়সায় ঠিক নয়, ১০৩ টাকায়। পুলিশের এমন প্রচারণা কিংবা এমন ঘোষণা একজন মিডিয়াকর্মী হিসেবে বিশ্বাস করা কঠিন। কারণ এটি অসম্ভব প্রক্রিয়া। বিগত নিয়োগ প্রক্রিয়া তার দৃষ্টান্ত। ইতোপূর্বে একেকজন কনস্টেবল নিয়োগে ঘুষ দেয়া কিংবা নেয়া হয় ৮-১০ লাখ টাকা করে। বিপুল সংখ্যক কনস্টেবল নিয়োগে বিপুল পরিমাণ টাকার লোভ সংবরণ করাটা যে কঠিনই। বিগত কয়েকজন পুলিশ সুপার সেই স্বাদ ঠিকই গ্রহণ করেছিলেন। সেই সাথে বেশ কিছু দালালের পকেটেও গেছে বহু টাকা। স্বভাবতই বর্তমান কুষ্টিয়া পুলিশের এমন ঘোষণা অবান্তরই মনে হতে পারে। কিন্তু যখন দেখা গেলো নিয়োগ হয়ে গেছে। তখন কুষ্টিয়া পুলিশের প্রতি সেই ধারণাটাও পাল্টে গেলো। এবার কুষ্টিয়ায় নিয়োগ হলো ৭৫জনের।
মুক্তিযোদ্ধাসহ সকল কোটা পূরণ করা হয়েছে তাতে। মাত্র দুদিনেই যাচাই বাচাই শেষে বৃহস্পতিবার (০৪ জুলাই) রাতে চূড়ান্ত ঘোষণাও দেয়া হলো।

কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত (বিপিএম বার) তার কার্যালয়ের সামনে এই চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা দেন।

জানা যায়, প্রাথমিকভাবে দুই সহস্রাধিক চাকুরি প্রত্যাশী অংশ নিলেও লিখিত পরীক্ষায় টিকে মাত্র ৩০০জন। এর মধ্য থেকে চুলচেরা বিশ্লেষণ করে সম্পূর্ণ মেধার ভিত্তিতে চূড়ান্ত করা হয় ৭৫ জনের নাম। স্থান পায় ৭ নারীও।

সাত নারীর মধ্যে দৌলতপুর উপজেলার শেরপুর গ্রামের কৃষক পরিবারের সন্তান সোনিয়া আক্তার। বাবা দিদার আলীর অস্বচ্ছল পরিবারের সন্তান তিনি। চার ভাই বোনের মধ্যে সোনিয়া সবার ছোট। অভাবের সংসারের হাল ধরার মত কেউ নেই। বাবা দিদার আলী দরিদ্র কৃষক। তার পক্ষে বড় এই সংসার চালানো দায়। ছোট বেলা থেকেই পুলিশে চাকুরি করার ইচ্ছে ছিল সোনিয়ার। কিন্তু অভাবের সংসারে ঘুষ দিয়ে চাকুরি নেয়ার সেই অর্থ নেই তার। এবার তিনি শুনেছেন চাকুরিতে কোনো ঘুষ লাগবেনা। পুলিশের এমন প্রচারণায় আবেদন করেছিলেন তিনি। পরিবারের পক্ষ থেকেও উদ্বুদ্ধ করা হয় তাকে। শরীরিক ফিটনেস কিংবা মেধা দুটিই ছিল তার। তাই আত্মবিশ্বাসও ছিল বেশ। মাত্র ১০৩ টাকায় হয়েও গেলো চাকুরি।

পুলিশ সুপার জানান, চাকুরি পাওয়া ছেলে মেয়েদের অভিব্যক্তি শুনে আমি বিমোহিত হয়েছি। যারা চাকুরি পেয়েছে তাদের অধিকাংশই হতদরিদ্র কৃষক পরিবারের সন্তান। প্রকৃত মেধাবীরাই সুযোগ পেয়েছে চাকুরিতে।

তিনি বলেন, সরকারসহ পুলিশের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কর্তাব্যক্তিরা চাচ্ছেন পুলিশে স্বচ্ছতা ফিরে আসুক। সেই চাওয়া পূরণেই কুষ্টিয়া পুলিশ নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছতার সাথে বাস্তবায়ন করেছে। এই ধারা আগামীতেও অব্যাহত রাখতে চাই।

fb-share-icon35
fb-share-icon20

Enjoy this blog? Please spread the word :)