সোমবার | ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং |

আসছে ঈদ, বাংলাদেশে গরু পাচার ঠেকাতে মরিয়া ভারত!

নিউজ ডেস্ক | মঙ্গলবার,২৩ জুলাই ২০১৯:
প্রতি বছর কোরবানির ঈদ ঘিরে বাংলাদেশে ভারতীয় গরু পাচারের হিড়িক পড়ে যায়। পশ্চিমবঙ্গ থেকে শুরু করে দেশের প্রায় প্রতিটি সীমান্ত অঞ্চলে গরু পাচারকারীদের দৌরাত্ম্য বেড়ে যায়। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে অবৈধপথে দেশের বাজারে নামানো হয় হাজার হাজার বিদেশি গরু।

তবে আসছে ইদুল আজহাকে সামনে রেখে এবার আগাম সতর্কতামূলক অবস্থান নিয়েছে ভারত সরকার। পশ্চিমবঙ্গ থেকে বাংলাদেশে গরুপাচারের সংখ্যা পাল্লা দিয়ে বাড়ছে- এমন অভিযোগ এনে গবাদি পশু পাচার রুখতে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।

দেশটির শীর্ষ বিএসএফ কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, কোরবানির ঈদ সামনে রেখে গরু পাচার রুখতে সীমান্তে অতিরিক্ত জওয়ান মোতায়েন করা হচ্ছে। পাশাপাশি নৌ পথে বাড়ানো হচ্ছে সার্বক্ষণিক টহল।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে শত শত গরু পাচার হচ্ছে। প্রতি রাতেই পাহাঘাটি, ফুলতলা, লালপুর, ধানগ্রা, ধুলিয়ান, ছোটোশিবপুর, বড়শিবপুর, ডিস্কোমোকর, দৌলতপুরের মতো গঙ্গার তীরবর্তী গ্রাম থেকে সারি সারি গরুর গলায় কলাগাছ বেঁধে নদীতে ভাসিয়ে দেয়া হচ্ছে। যেন গরুগুলো ভাসতে ভাসতে বাংলাদেশ সীমান্তে ঢুকে যেতে পারে এবং বাংলাদেশ সীমান্তের পাচারাকীররা সহজেই যেন সেগুলো নিয়ে নিতে পারে।

গত কয়েক সপ্তাহে পাচারকালে প্রায় ১ হাজার ২০০ গরু ও মহিষ আটক করেছে বিএসএফ। কোরবানি ঈদ সামনে রেখে প্রতিটি ভারতীয় গরু ও মহিষের দাম ৮০ হাজার থেকে ১ লক্ষ রুপিতে পৌঁছেছে বলে বিএসএফ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

বিএসএফ কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, ঈদ সামনে রেখে ভারত থেকে যে পরিমাণ গরু বাংলাদেশে পাচার হচ্ছে তার এক তৃতীয়াংশ গবাদি পশু এরইমধ্যে আটক করা হয়েছে। এ মুহূর্তে দু’দেশের সীমান্তে অতিরিক্ত জওয়ান, নৌ পথে বোটের সংখ্যা বাড়ানো ও সর্বোপরি বাড়তি নজরদারি রাখা হচ্ছে।

বিএসএফ কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, এইসব পাচারের কারণেই মাঝেমধ্যে পাচারকারীদের সঙ্গে সীমান্তে জওয়ানদের সংঘর্ষ হয়। সম্প্রতি গরু পাচারের সময় পাচারকারীদের সঙ্গে পৃথক সংঘর্ষে প্রায় ১২ জন বিএসএফ জওয়ান আহত হয়েছেন। মধ্যরাতে পাচারকারীদের ছোড়া বোমায় উত্তর ২৪ পরগনার আঙ্গরাইল ফাঁড়িতে এক জওয়ানের হাত কাটা পড়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী জওয়ানরা এখন আরও কঠোর হচ্ছেন। তাদেরকে আগ্রাসী মনোভাব নিয়ে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ঈদ ঘিরে বাংলাদেশে গরু পাচার রোধের বিষয়টিকে ভারতীয় পুলিশ ও বিএসএফ জওয়ানরা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে।

এদিকে ঈদকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীদের ভারতীয় গরু আমদানির কারণে প্রতি বছরের মতো এবারও আর্থিক লোকশানের আশঙ্কা দেশের খামারি ও প্রান্তিক চাষিদের মনে। দেশের ব্যবসায়ীরা ভারতীয় গরু আমদানির ওপর সরকারের কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানাচ্ছেন।

fb-share-icon35
fb-share-icon20

Enjoy this blog? Please spread the word :)