সোমবার | ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং |

হৃদয়ই শুরু করে ‘ছেলেধরা, ছেলেধরা’, খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে হত্যাও করে সে

নিজস্ব প্রতিবেদক | বুধবার, ২৪ জুলাই ২০১৯:
রাজধানীর বাড্ডায় ছেলেধরা সন্দেহে তাসলিমা বেগম রেনুকে গণপিটুনির সময় সেখানে থাকা অন্য এক নারীর কথায় প্ররোচিত হয়ে হামলায় অংশ নেয় হৃদয়। ঘটনার পর হৃদয় বুঝতে পেরেছিল পুলিশ তাকে খুঁজছে। তখন সে চলে যায় নারায়নগঞ্জে দুই দিন পর তার চুল ন্যাড়া করে ফেলে। এ সময় বাড্ডায় থাকা তার নানিকে সে বলে তার যত পোশাক আছে সব যেন পুড়িয়ে ফেলা হয়। তবে ঘটনার দিন হৃদয় যে পোশাকে ছিল সেটা উদ্ধার করা হয়েছে।

বুধবার (২৪ জুলাই) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করে বিষয়টি জানান ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার আব্দুল বাতেন। আগেরদিন সন্ধ্যায় নানা সূত্র থেকে বিষয়টি নিয়ে খবর আসলেও পুলিশ নিশ্চিত করে কিছু বলছিল না।

ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, বাড্ডায় রেনু হত্যাকাণ্ডে নেতৃত্ব দেয়া সবজি বিক্রেতা হৃদয়কে মঙ্গলবার তাকে নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেফতারের পর ডিবি হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ওই সময় সে হত্যাকাণ্ডে জড়িত আরও ১৬ জনের নাম জানায়।

পুলিশ কর্মকর্তা বাতেন বলেন, ওই ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত মূল আসামি ছিল হৃদয়। সে ওই নারীকে সরাসরি আঘাত করেছে, খুঁচিয়ে এবং মেরে ফেলার ক্ষেত্রে মূল ভূমিকা রেখেছিল।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে হৃদয়ের বাবা-মা নেই। তার নানির সঙ্গে বাড্ডা এলাকাতে বসবাস করতো। ঘটনার দিন ওই নারী (রেনু) যখন উত্তর-পূর্ব বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে তখন সে তাকে দেখেছিল। কারণ সেসময় সে বিদ্যালয়ের গেটে সবজি বিক্রি করছিল।

সন্তানকে স্কুলে ভর্তির বিষয়ে তাসলিমা বেগম রেনু স্কুলের গেটে এক অভিভাবকের সঙ্গে কথা বলছিলেন। এসময় ওই অভিভাবক রেনুর কাছে তার বাসার ঠিকানা জানতে চায়। ঠিকানা বললে তার একটু সন্দেহ হয়। তখন সেই প্রথম বলতে শুরু করে এটা তো ‘ছেলেধরা’। এটা সবজি বিক্রেতা হৃদয় শুনে আরও কয়েকজনকে বলে। কানে কানে সেটা অনেকের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে একটা জটলা পাকিয়ে যায়।

আব্দুল বাতেন আরও বলেন, ১৫-২০ জনের একটা জটলা তৈরি হলে স্কুল কর্তৃপক্ষ রেনুকে স্কুলের দ্বিতীয় তলায় নিয়ে একটু রুমে তালাবদ্ধ করে রাখে। এ সময় স্কুলের নিচে জটলা আরও বড় হতে থাকে। পাশে বাজার থাকায় কিছুক্ষণের মধ্যেই হাজারের মত লোক জমে যায়। ছেলেধরার কথাটা এমনভাবে ডাল-পালা তৈরি করে সবাই তখন স্কুলে প্রবেশ করে। কেউ দেয়াল টপকে কেউ গেট ভেঙে ভেতরে যায়। এরমধ্যে কয়েকজন তালা ভেঙে মহিলাকে (রেনু) বের করে আনে এবং গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করা হয়।

রেনু হত্যায় বাড্ডা থানায় ৪০০-৫০০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদের একজন আদালতে অভিযোগ স্বীকার করেছেন। তাদের মধ্যে তিন জন আছে রিমান্ডে।

ডিবি কর্মকর্তা বলেন, ‘ঘটনার সময় যে কয়জন স্কুলের তালা ভেঙে মহিলাকে বের করে এনেছে তাদের নাম হৃদয় বলেছে। আমরা দ্রুত তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা করছি।’

ব্যক্তিগত আক্রোশে কেউ এটা করেছে কি-না এমন প্রশ্নে আব্দুল বাতেন বলেন, ‘যে মহিলা প্রথম জিজ্ঞসাবাদ করেছিল সেই মহিলার সঙ্গে রেনুর পূর্ব পরিচিতি ছিল কি-না সেটা জানা যায়নি। আমরা ওই মহিলাকে খুঁজছি।’

fb-share-icon35
fb-share-icon20

Enjoy this blog? Please spread the word :)