সোমবার | ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং |

দুর্নীতিবাজ যদি দলের লোকও হয়- কোনও ছাড় পাবে না: প্রধানমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক | রবিবার,২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯:
আবারও দুর্নীতি-মাদক-সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘ফাঁকফোকর কোথায়, কারা সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত করছে তাদের শিগগিরই খুঁজে বের করা হবে। দুর্নীতি না হলে দেশ আরও অনেক দূর এগিয়ে যেতো। দেশের পুরো চেহারাটাই আরও পাল্টে যেতো। দুর্নীতিবাজ দলের লোক হলেও কোনও ছাড় পাবে না।’

নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় শনিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নিউইয়র্কের ম্যারিয়ট মারকুইজ হোটেলে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক নাগরিক সংবর্ধনায় তিনি এসব কথা বলেন।

দুর্নীতিবিরোধী চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি একটা কথা আবারও স্পষ্ট করে বলতে চাই, দুর্নীতি-অনিয়ম করে যারা অসৎ পথ বেছে নিতে চাইবে- তারা যদি আমার দলের লোকও হয় তারপরও কোনও ছাড় পাবে না। আমাদের সরকার ব্যাপক উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এই প্রকল্পগুলোর টাকা যদি সঠিকভাবে খরচ হতো তবে বাংলাদেশের চেহারাটাই পাল্টে যেতো।’

এসব দুর্নীতি-অনিয়মের বিরুদ্ধে নিজের হস্তক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এখন আমি নিজে এসব বিষয়গুলো দেখছি। কারা ‍দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত, কারা অসৎ পথে উপার্জন করে, কারা সরকারের প্রকল্পের টাকার সঠিক ব্যবহার করে না, কোথায় খাটতিটা- তা আমি নিজে এখন খুঁজে বের করবো।’

এসময় চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজির অভিযোগে সম্প্রতি অব্যাহতি পাওয়া ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং নানা অপকর্মে জড়িত যুবলীগ নেতাদের নিয়ে চরম হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

চলমান ‘শুদ্ধি অভিযানে’ একাধিক যুবলীগ নেতা গ্রেফতার, অনেকের ব্যাংক হিসাব তলব ও কারও কারও বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘অসৎ লোকদের কারণে সৎ মানুষের সৎভাবে জীবনযাপন করা কঠিন হয়ে উঠে। সৎভাবে চলতে গেলে বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা নিয়ে চলতে হয়, তখন ছেলেমেয়েদের চাহিদাও ঠিকমতো পূরণ করা যায় না। কারণ, ছেলেমেয়েরা তো আর সৎ-অসতের তফাত বুঝতে চায় না। সবসময়ই কোনও না কোনও ক্রাইসিস থাকেই। অসৎ মানুষদের দৌরাত্ম্য সৎ মানুষের জীবনযাপনকে কঠিন করে তুলে।’

তিনি বলেন, ‘আর যারা অসৎ পথে উপার্জন করে তারা নানা ব্রান্ডের এটা-ওটা যখন তখন কিনতে পারে। বিলাসী জীবন যাপন করতে পারে। তবে অসৎ পথে উপার্জিত পয়সা সমাজ-রাষ্ট্রকে বিকলাঙ্গ করে দেয়।’

সমাজ থেকে চলমান এই বৈষম্য দূরীকরণে তাঁর সরকার কাজ শুরু করেছে জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ‘কে কীভাবে জীবনযাপন করে, কার আয়-উপার্জন কত, তা খুঁজে বের করা হবে। আর সেটি করতে পারলে সমাজে যে অসম অবস্থা সেই ব্যাধিও দূর হবে। আগামী প্রজন্মের জন্য আমরা একটি সমতার সমাজ গড়ে তুলতে চাই।’

এসময় তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম ও ত্যাগের কথা তুলে ধরেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘দেশে একশ্রেণির বুদ্ধিজীবী পরশ্রীকারত আচরণ’ করে আসছে। দেশে যত উন্নয়নই হোক, সেগুলো কখনও তাদের চোখে পড়বে না, সেগুলো নিয়ে তারা কখনও প্রশংসা করবে না।’

এইসব বুদ্ধিজীবীদের তিনি বিএনপি-জামায়াত সরকারের আমলে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া, তাঁর ছেলে তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকোর দুর্নীতির কথা স্মরণ করিয়ে দেন।

সরকারপ্রধান বলেন, ‘আওয়ামী লীগের বড় শক্তি জনগণ। আমরা জনগণের শক্তিতে বিশ্বাস করি। আওয়ামী লীগ যতবার ক্ষমতায় এসেছে দেশের উন্নয়ন হয়েছে। মানুষের জীবনমান উন্নত হয়েছে।’

এর আগে শনিবার দুপুরে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। জাতিসংঘের চলমান সাধারণ অধিবেশন শেষে আগামী ১ অক্টোবর দেশে ফেরার কথা রয়েছে তাঁর।

fb-share-icon35
fb-share-icon20

Enjoy this blog? Please spread the word :)