শুক্র. নভে ২২, ২০১৯

dhaka24.net

Online News Portal

গঠনতন্ত্র ও নেতৃত্বে আসছে পরিবর্তন

কৃষক লীগের জাতীয় সম্মেলন আজ বুধবার। দলের ‘মনস্টার’দের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শুদ্ধি অভিযানের মাঝেই হতে যাচ্ছে সংগঠনটির সম্মেলন। এজন্য রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কৃষকের বাড়ির আদলে করা হয়েছে মঞ্চ। সাত বছর পরের সম্মেলনে আসছে নতুন নেতৃত্ব; গঠনতন্ত্রেও আনা হয়েছে সংশোধনী। দেশের বাইরে কমিটি অনুমোদনে আনা হচ্ছে কঠোরতা।

দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, কৃষক লীগকে গতিশীল করতে কৃষিবিদ এবং কৃষিবিজ্ঞানীদের আনা হতে পারে মূল নেতৃত্বে। সাম্প্রতিক ক্যাসিনো, দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের আঁচড় কৃষক লীগের গায়েও লেগেছে। সম্প্রতি গ্রেফতার হওয়া কলাবাগান ক্রীড়া চক্রের সভাপতি শফিকুল ইসলাম ফিরোজ কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। এছাড়াও ধানের দাম নিয়ে লঙ্কাকাণ্ডে কৃষক লীগের নির্লিপ্ততা সমালোচিত হয়েছে সব মহলে। বিভিন্ন সময়ে কৃষক লীগের নেতৃত্ব নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন।

কুয়েত, দুবাই, যুক্তরাষ্ট্রসহ উন্নত দেশগুলোতে কৃষক লীগের কমিটি থাকা নিয়েও জল কম ঘোলা হয়নি। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনার অনুমোদিত কমিটির বাইরে পদ বাণিজ্য নিয়েও আছে আলোচনা। আসন্ন সম্মেলনে সব সমালোচনা কাটিয়ে সত্যিকার অর্থে কৃষকবান্ধব নেতা চান কর্মীরা।

কৃষকের স্বার্থে কাজ করবে এমন প্রত্যাশায় ১৯৭২ সালের ১৯ এপ্রিল কৃষক লীগ প্রতিষ্ঠা করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

সবশেষ ২০১২ সালের ১৯ জুলাই গঠন করা হয় কৃষক লীগের কমিটি। মোতাহার হোসেন মোল্লাকে সভাপতি ও খন্দকার শামসুল হক রেজাকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। ১১১ সদস্যের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি কার্যক্রম চালাচ্ছিল দায়সারাভাবে। দিবস কেন্দ্রিক অনুষ্ঠানেই থমকে ছিল দেশের বৃহত্তর গোষ্ঠীর পক্ষে কাজ করতে প্রতিষ্ঠিত হওয়া কৃষক লীগ। দীর্ঘ মেয়াদেও দেশের বেশির ভাগ ইউনিটেও করতে পারেনি পূর্ণাঙ্গ কমিটি।

এসব বিবেচনায় কৃষক লীগকে গতিশীল করতে গঠনতন্ত্র আনা হচ্ছে বেশ বড়সড় পরিবর্তন। জানা গেছে, কৃষক লীগের বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য সংখ্যা ১১১ বাড়িয়ে ১৫১ জন করার প্রস্তাব করা হয়েছে। সহ-সভাপতি ১৬ জন থেকে বাড়িয়ে ২১ জন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ৩ জন থেকে ৫ জন ও সাংগঠনিক সম্পাদক ৭ জন থেকে বাড়িয়ে ৯ জন করার প্রস্তাব করা রয়েছে।

এছাড়া নতুন যুক্ত হচ্ছে- মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক, ক্রীড়া ও যুববিষয়ক সম্পাদক, কৃষিশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক, কৃষি উপকরণ বিষয়ক সম্পাদক, কৃষিপণ্য পরিবহন বিষয়ক সম্পাদক পদ। আগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ১০টি বিভাগীয় সম্পাদকম-লীর সঙ্গে একটি করে সহ-সম্পাদকের পদ ছাড়াও প্রস্তাবিত সব বিভাগীয় সম্পাদকের সঙ্গে সহ-সম্পাদক রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। জেলা-উপজেলা কমিটির আকারও বৃদ্ধির প্রস্তাবও দেবে গঠনতন্ত্র উপ-কমিটি।

বর্তমান জেলা কমিটি ৮১ জন বিশিষ্ট, যা ৯১ সদস্যবিশিষ্ট করার প্রস্তাব থাকছে। উপজেলা কমিটি ৭১ জনের স্থলে ৮১ জন, ইউনিয়ন বা সমমর্যাদার কমিটি ৬১ জনের স্থলে ৭১ জন এবং ওয়ার্ড কমিটি ৫১ জন থেকে বাড়িয়ে ৬১ করার প্রস্তাব রাখা হচ্ছে। কিছু সম্পাদকীয় পদের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাবও করা হচ্ছে কমিটির পক্ষ থেকে।

সম্মেলনকে ঘিরে কয়েকদিন ধরেই নানা মহলে দৌড়ঝাঁপ করছেন শীর্ষ পদ প্রত্যাশীরা। কৃষক লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সম্মেলনে শীর্ষ দুই নেতা হওয়ার দৌঁড়ে এগিয়ে রয়েছেন বর্তমান কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি খান আলতাফ হোসেন ভুলু, সহ-সভাপতি ছবি বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খন্দকার শামসুল হক রেজা, সহ-সভাপতি শরীফ আশরাফ আলী, বদিউজ্জামান বাদশা, আকবর আলী, শেখ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ড. হারুনুর রশীদ হাওলাদার।

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ সমীর চন্দ, সাংগঠনিক সম্পাদক কৃষিবিদ সাখাওয়াত হোসেন সুইট, আতিকুল হক আতিক। সংগঠনের আরেক সাংগঠনিক সম্পাদক বিশ্বনাথ সরকার বিটু, আসাদুজ্জামান বিপ্লব, আবুল হোসেন।

সংগঠনটির জাতীয় সম্মেলনে মঞ্চ সজ্জায় আনা হয়েছে ভিন্নতা। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কৃষকের বাড়ির আদলে করা হয়েছে মঞ্চ। আর সবজি গাছ, কৃষক ও কৃষিকাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত সব জিনিস দিয়ে সাজানো হয়েছে সামনের অংশ। স্বাধীনতার স্মৃতিস্তম্ভ সংলগ্ন লেকের পূর্ব-উত্তর পাশে দক্ষিণমুখী করে ৯০ ফুট বাই ৩০ ফুট মূল মঞ্চের সামনে ৯ ফুট বাই ৪২ ফুট দৈর্ঘ্যরে আরেকটি মঞ্চ করা হয়েছে। মঞ্চের সামনে থাকবে অতিথিদের বসার জায়গা। এরপরই থাকবে আগত কাউন্সিলর ও ডেলিগেটদের স্থান। সেখানে ২০ হাজার পর্যন্ত চেয়ার বসানোর জায়গা থাকবে।

0

প্রধান সম্পাদক: রাছেল খাঁন
বাউনিয়া,বটতলা,তুরাগ, উত্তরা,ঢাকা-১২৩০।
মোবাইল : +৮৮ ০১৮৫৯ ৫৫১৫৫৫
ই মেইল: deskdhaka24@gmail.com

Copyright © All rights reserved Dhaka24.net | Tuba E Shop by .