মঙ্গল. নভে ১৯, ২০১৯

dhaka24.net

Online News Portal

সামাজিক দায়বদ্ধতার দিকে নজর দিন বীমা মালিকদের প্রধানমন্ত্রী

মুনাফা অর্জনের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতার দিকেও নজর দিতে বীমা কোম্পানির মালিকদের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘বীমা কোম্পানির মালিকদের প্রতি আমার অনুরোধ থাকবে শুধু মুনাফা অর্জনের দিকে না তাকিয়ে সমাজের প্রতি যে একটা দায়বদ্ধতা আছে সেদিকে একটু বিশেষভাবে আপনারা দৃষ্টি দেবেন। এটাই আমরা চাই।’ মঙ্গলবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ১৫তম আন্তর্জাতিক ক্ষুদ্রবীমা সম্মেলনের উদ্বোধন অনুষ্ঠান তিনি এ আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বীমাশিল্পকে মানবিক কল্যাণে কাজে লাগানো একান্তভাবে অপরিহার্য। এজন্য উৎপাদন এবং অর্থনীতিকে ঝুঁকিমুক্ত রাখতে কোম্পানিগুলোকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি বলেন, দেশের মানুষের বীমা করার অভ্যাস কম। এটা হলো বাস্তবতা। এমনকি আমিও এক সময় জীবন বীমা করে তারপর সেই কাগজটা সেটা যে কোথায় হারালো তা আর খুঁজে পাইনি।

বিমার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঝুঁকি কমিয়ে আর্থিক নিশ্চয়তা দেয় বীমা। জীবন ও সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতিতে নিরাপত্তা দেয় বীমা। পাশাপাশি পুঁজিবাজার ও বিনিয়োগ খাতের জন্য তহবিল সৃষ্টিতেও সহায়তা করে। ধনী, দরিদ্র নির্বিশেষে সবার জন্য মূলত বীমা প্রয়োজন। প্রবাসী কর্মীদের জন্য বীমা প্রবর্তনের লক্ষ্যে প্রবাসীকর্মী বীমা নীতিমালা জারি করা হয়েছে। এতে প্রায় ১২ মিলিয়ন কর্মীর বীমা ঝুঁকি গ্রহণ সম্ভব হবে। এ বীমার আওতায় একজন প্রবাসী কর্মী সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকার বীমা সুবিধা পাবেন।

পিতা-মাতার অবর্তমানে স্কুল শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখার জন্য ‘বঙ্গবন্ধু শিক্ষা বীমা’ প্রবর্তনের কাজ চলছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সরকারপ্রধান বলেন, গত দুই বছরে প্রায় আট হাজার কোটি টাকার বীমা দাবি নিষ্পত্তি করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বজায় থাকায় দাবি নিষ্পত্তির হার আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

তিনি আরও বলেন, মানুষ ধীরে ধীরে দারিদ্র্যসীমা থেকে বেরিয়ে আসছে। দারিদ্র্যের হার ৪১ ভাগ ছিল সেটাকে কমিয়ে ২১ ভাগে নামিয়ে এনেছি। এটা আরও কমিয়ে ১৬/১৭ ভাগে নামিয়ে আনব।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় সরকারের পাশাপাশি বীমা কোম্পানিগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

এক ঠিকাদার যেন বারবার কাজ না পায়
এক ঠিকাদার যেন বারবার কাজ না পায় সে দিকে নজর দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে তিনি নির্দেশ দেন বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। আলোচিত যুবলীগ নেতা জি কে শামীম ফেঁসে গিয়ে তার হাতে থাকা সরকারি অনেক প্রকল্পের কাজ আটকে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে নতুন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে কাজ পাওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার নির্দেশ দেন সরকারপ্রধান।

একনেক বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, টেন্ডার ডকুমেন্ট এমনভাবে তৈরি করতে হবে, যাতে নির্দিষ্ট কোম্পানি বারবার কাজ না পায়, নতুন ঠিকাদাররা যাতে কাজ পায়। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ, নতুনদের কাজ করার সুযোগ তৈরি করে দিতে হবে।

এক জি কে শামীমের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জিকে বি অ্যান্ড কোম্পানির হাতে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার কাজ ছিল। অভিযোগ রয়েছে, যুবলীগ নেতা পরিচয়ে প্রভাব খাটিয়ে জিকে শামীম সরকারি বিভিন্ন কাজ ভাগিয়ে নিতেন। জিকে বিল্ডার্সের হাতে থাকা ৫৩ সরকারি প্রকল্পের মধ্যে ২৫টির কাজই সময়মতো শেষ হয়নি। এর মধ্যে শূন্য অগ্রগতির প্রকল্পও রয়েছে। গত সেপ্টেম্বরে জি কে শামীম গ্রেফতার হওয়ার পর তার ব্যাংক হিসাবও জব্দ করা হয়েছে, ফলে এই প্রকল্পগুলো নিয়ে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে সরকারকে।

একনেক সভার পর পরিকল্পনামন্ত্রী আরও বলেন, প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে, অথচ লোকবলের অভাবে বা অন্য কোনো কারণে প্রকল্প অপারেশন করা যাচ্ছে না, এরকম প্রকল্প চিহ্নিত করার নির্দেশও প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন।

এদিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সুরক্ষায় প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার একনেক সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। ৩ হাজার ৪৪৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভৌত সুরক্ষা ব্যবস্থা (পিপিএস) নির্মাণ’ প্রকল্পটি ২০২৩ সালের মার্চের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য ধরা হয়েছে। পারমাণবিক নিরাপত্তা ও ভৌত সুরক্ষা ব্যবস্থা সেল (এসএসপিসি) ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী যৌথভাবে প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে।

বৈঠকে এ প্রকল্পসহ মোট ৪ হাজার ৪৪৭ কোটি ৭৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ছয়টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে সরকারের তহবিল থেকে ৪ হাজার ৪৩৯ কোটি ৮৬ লাখ টাকা, বাকি ৭ কোটি ৯০ লাখ টাকার সংস্থান নিজস্ব তহবিল থেকে অর্থায়ন করা হবে।

অন্যান্য প্রকল্পগুলো হলো-৩৬৬ কোটি ২৮ লাখ টাকা ব্যয়ে যশোর (রাজারহাট)-মনিরামপুর-কেশবপুর-চুকনগর আঞ্চলিক মহাসড়ক (আর-৭৫৫) উন্নয়ন। ৭১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ফেনী-সোনাগাজী-মুহুরী সড়কে ৩৯১ দশমিক ৩৪ মিটার দীর্ঘ মুহুরী সেতু ও বক্তারমুন্সী-কাজিরহাট-দাগনভূঁঞা সড়কে ৫০ দশমিক ১২ মিটার দীর্ঘ ফাজিলাঘাট সেতু নির্মাণ।

৩৬১ কোটি ২২ লাখ টাকা ব্যয়ে কক্সবাজারের একতাবাজার থেকে বানৌজা শেখ হাসিনা ঘাঁটি পর্যন্ত সড়ক (জেড-১১২৫) উন্নয়ন। ৭৯ কোটি টাকা ব্যয়ে আগারগাঁওয়ে শেরেবাংলা নগরে পর্যটন ভবন নির্মাণ (১ম সংশোধিত)। ১২০ কোটি ৮২ লাখ টাকা ব্যয়ে সিলেট সদর ও বিশ্বনাথ উপজেলায় দশগ্রাম, মাহতাবপুর ও রাজাপুর পরগণাবাজার এলাকায় সুরমা নদীর তীর ভাঙন থেকে সুরক্ষা।

0

প্রধান সম্পাদক: রাছেল খাঁন
বাউনিয়া,বটতলা,তুরাগ, উত্তরা,ঢাকা-১২৩০।
মোবাইল : +৮৮ ০১৮৫৯ ৫৫১৫৫৫
ই মেইল: deskdhaka24@gmail.com

Copyright © All rights reserved Dhaka24.net | Tuba E Shop by .