রবিবার | ৭ই জুন, ২০২০ ইং |

ফোনালাপ ফাঁস: কার কার সঙ্গে কী কথা হয়েছে ভিপি নূরের?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি নুরুল হক নুরের একটি ফোনালাপ ফাঁস হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুরের ওই অডিও ক্লিপটি ফাঁস করা হয়। সেখানে জনৈক ব্যক্তি ও প্রবাসী এক বাংলাদেশির সঙ্গে কথা বলতে শোনা যায় ভিপি নুরকে। সেই ফোনালাপে অর্থ লেনদেনের বিষয়ে কথা হয়। এমনকি ওই প্রবাসী ব্যক্তি ভিপি নুরকে ই-মেইল অ্যাড্রেসসহ ব্যাংক অ্যাকাউন্টের নম্বর পাঠাতেও বলেন।

ভিপি নুরের এই ফোনালাপ ফাঁস হওয়ার পর মঙ্গলবার রাতেই ফেসবুক লাইভে এসে নুরকে বহিষ্কারে ঢাবি উপাচার্যের প্রতি দাবি জানান ঢাবির সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ও মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের উপদেষ্টা অধ্যাপক মোজাম্মেল হক। এনিয়ে বুধবার ডাকসু ভবনের সামনে মানববন্ধন ও নুরের কুশপুত্তলিকা দাহ করার কথাও ফেসবুক লাইভে জানান ওই শিক্ষক।

তবে ফাঁস হওয়া ফোনালাপের একটি কণ্ঠ যে তারই তা স্বীকার করেছেন ভিপি নুর। যদি ভিপি নুরের পাল্টা অভিযোগ- ওই ফোনালাপটি বিকৃত ও আংশিকভাবে প্রচার করা হয়েছে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে বলেও দাবি করেন নুর।

ফোনালাপ ফাঁস হওয়ার বিষয়টি মুহূর্তে ভাইরাল হলে এ নিয়ে মঙ্গলবার রাতেই ফেসবুক লাইভে আসেন ভিপি নুর। সেখানে তিনি দাবি করেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ওই ফোনালাপটি আংশিক প্রচার করা হয়েছে। যা সাংবাদিকতার নীতিবিরোধী।

অডিও ক্লিপ প্রসঙ্গে নুর বলেন, ‘ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় আমার একটি ফোনালাপ বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। পুরো ফোনালাপটির কথা না শুনি কিছু অংশ কেটে প্রচার করেছে ওই টিভি চ্যানেলটি। যা সাংবাদিকদের নৈতিকতার সঙ্গে যায় না। আমি এর বিরুদ্ধে একটি প্রতিবাদলিপি ও উকিল নোটিশ পাঠাবো।’

ফেসবুক লাইভে নুর আরও বলেন, ‘মানুষের মনে আমার সম্পর্কে বিভ্রান্তি তৈরির জন্যই ফোনালাপের আংশিক অংশ সাজিয়ে-গুছিয়ে প্রচার করা হয়েছে।

এদিকে বেসরকারি ওই টিভি চ্যানেলটির প্রকাশিত সংবাদে দাবি করা হয়, এক আত্মীয়কে ১৩ কোটি টাকার ঠিকাদারি কাজ পাইয়ে দিয়ে তদবির করেছেন ভিপি নুর। পাশাপাশি যেকোনও আন্দোলনে আর্থিক সহায়তার বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে অবস্থানরত এক বিএনপি নেতার সঙ্গে নুরের যোগাযোগ হয়েছে।

এ বিষয়টি পরিষ্কার করতে ফেসবুক লাইভে ভিপি নুর বলেন, ‘আমাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই এমন সংবাদ প্রচার হয়েছে। আসলে আমার আন্টির কনস্ট্রাকশনের বিজনেস আছে। তার একটি কাজের ব্যাংক গ্যারানিট দেয়ার লাস্ট ডেট ছিল, তার দুদিন আগে আন্টি আমাকে ফোন দেন। কারণ তিনি ছিলেন এলাকায়, আমার মামাতো ভাই মোটরসাইকেল অ্যাক্সিডেন্টে মারা গেছে। আন্টি আমাকে বলেছিলেন, আমি কাউকে দিয়ে ব্যাংক গ্যারান্টি করিয়ে রাখতে পারি কিনা। কারণ সরকারি কাজের লাস্ট ডেট দুদিন ছিল।’

নুর বলেন, ‘তখন আমি আমার পরিচিত একজন কনস্ট্রাকশন ব্যবসায়ির কাছে গিয়ে তাকে বলেছিলাম, আসলে সে ১৩ কোটি টাকার কাজের ব্যাংক গ্যারান্টি করতে পারবে কিনা?’

অডিও ক্লিপ ফাঁস নিয়ে ভিপি নুর বলেন, ‘আন্টির সঙ্গে আমার অনেক ধরনের কথা হয়েছে। সেগুলোর আংশিক অংশ সেখানে ছড়ানো বা সাজিয়ে প্রচার করা হয়েছে প্রপাগান্ডা ছড়ানোর উদ্দেশ্যে। যেটা আমার পারিবারিক বিষয় বা আমাদের ব্যবসায়িক একটা বিষয়। সেখানে কোনও ধরনের ঘুষ-দুর্নীতি কিংবা আমি কাউকে তদবির করছি, তোষামোদ করছি- সে ধরনের কিছু নেই।’

প্রবাসী ব্যক্তি ই-মেইল অ্যাড্রেসসহ ব্যাংক অ্যাকাউন্টের নম্বর পাঠাতে বলা প্রসঙ্গে ভিপি নুর বলেন, ‘একজন লোক আমার কাছে পরিচয় দিয়েছিল, সে প্রবাসী। সে আমাদের শুভাকাঙ্ক্ষী, আমাদের হেল্প করতে চায়। তখন আমি তাকে বলেছি, আসলে অপরিচিত লোক, আপনার কাছ থেকে আমি হেল্প নেবো না। তারপরও আপনি যদি আমাদের হেল্প করতে চান, এখন আমাদের হেল্প প্রয়োজন নেই। যখন হেল্প লাগে আমরা আপনাকে বলবো। কিন্তু তার কাছ থেকে কোনও আর্থিক সুবিধা নেইনি কিংবা আর্থিক লেনদের হয়েছে সে ধরনের কথা নেই।’

ভিপি নুর বলেন, ‘বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় বেডরুল পর্যন্ত নজরদারি করা হয়। আমি ওই প্রবাসীকে বলেছি, আপনি যদি আমাদের শুভাকাঙ্ক্ষী হয়ে থাকেন, আপনি যদি আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন, তাহলে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করেন। কিন্তু দেখেন সে বলেছে, একটা মেইল অ্যাড্রেস দেন আমাকে। একটা নম্বর দেন। আমি সেখানে কী রিপ্লাই দিয়েছি, প্রচার হওয়া ফোনালাপে তা নেই।’

fb-share-icon35
fb-share-icon20

সময় বাচাঁতে ঘরে বসে কেনা-কাটা

Enjoy this blog? Please spread the word :)