1. shahinit.mail@gmail.com : dhaka24 :
  2. arifturag@gmail.com : ঢাকা টোয়েন্টিফোর : ঢাকা টোয়েন্টিফোর
  3. sasujan83@gmail.com : ঢাকা টোয়েন্টিফোর : ঢাকা টোয়েন্টিফোর
শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ০৭:৫৮ পূর্বাহ্ন

প্রার্থীর সম্পদের বিবরণ দিয়ে নির্বাচন কমিশন কী করে?

Reporter Name
  • প্রকাশিত | বৃহস্পতিবার, ২ জানুয়ারি, ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদক | নরসিংদী প্রতিদিন –
বৃহস্পতিবার,০২ জানুয়ারী ২০১৯:
বিভিন্ন নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনে প্রার্থীদের হলফনামা আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে সম্পদের বিবরণ নিয়ে। দেখা যায়, দেশের ধনাঢ্য ব্যবসায়ী হওয়া সত্বেও তার তেমন কোনও সম্পদই নেই। এমনকি সেই সব সম্পদশালীদের ‘বাড়ি নেই’, ‘গাড়ি নেই’, ‘নগদ টাকা নেই’ ইত্যাদি আলোচনায় এসেছে। আবার কারও ক্ষেত্রে দেখা গেছে, আগের বার যে সম্পদের বিবরণ দিয়েছে পরের বার তার চেয়ে কয়েক হাজার গুণ সম্পদ বেড়েছে।

ফখরুদ্দিন-মঈনউদ্দিনের তত্ত্ববধায়ক সরকারের সময় ২০০৮ সাল থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে হলে প্রার্থীদের সম্পদের বিবরণ এবং শিক্ষাগত যোগ্যতাসহ আট বিষয়ের তথ্য দেয়া বাধ্যতামূলক করা হয়। তবে সম্পদ নিয়েই আলোচনা হয় বেশি। প্রার্থীদের দেয়া সম্পদের বিবরণ কতটা সত্য সেটি নিয়ে অনেকের মনে নানা প্রশ্নের উদয় হয়।

গণমাধ্যমে হলফনামা ধরে সাংসদ-মন্ত্রীদের ফুলে-ফেঁপে ওঠার কাহিনী প্রকাশের ফলে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির সংসদ নির্বাচনের সময় হলফনামা নিয়ে একধরনের লুকোচুরির আশ্রয় নিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। ব্যাপক সমালোচনা ফলে পরবর্তী উপজেলা নির্বাচনে সেই অবস্থান থেকে সরে আসে ইসি।

দেশের সকল নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় প্রার্থীদের একটি হলফনামা দাখিল করতে হয় যেখানে প্রার্থীদের সম্পর্কে ব্যক্তিগত ও আর্থিক বিষয়াদি নিয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু তথ্য থাকে। সাধারণ মনোনয়নপত্র দাখিলের পরপরই সংশ্লিষ্ট নির্বাচন অফিসগুলো থেকে এগুলো সংগ্রহ করা যায় এবং এর উদ্দেশ্য ছিলো – যাতে ভোটাররা তাদের ভোট দেয়ার আগেই প্রার্থী সম্পর্কে একটি ধারণা পেতে পারেন।

এবার ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের হলফনামা নিয়েও আলোচনায় এসেছে। প্রশ্ন হচ্ছে, সম্পদের এ বিবরণ দিয়ে নির্বাচন কমিশন কী করে? নির্বাচনের উপর এর আদৌ কোন প্রভাব থাকে?

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আতিকুল ইসলাম একজন ধনাঢ্য ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হলফনামায় তিনি যে সম্পদের বিবরণ দিয়েছেন, সেখানে দেখা যাচ্ছে নিজের নামে বাড়ি থাকলেও তার নামে কোনও গাড়ি নেই। তার ১৬টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে এবং স্থাবর এবং অস্থাবর সবমিলিয়ে তার সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১২ কোটি টাকা।

অন্যদিকে তার প্রতিন্দ্বন্দ্বি বিএনপি প্রার্থী তাবিথ আউয়ালও একজন ব্যবসায়ী। ৩৭টি প্রতিষ্ঠানের মালিকানা রয়েছে তার। তার অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৪৫ কোটি টাকা।

আর দক্ষিণে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নৌকার প্রার্থী ফজলে নূর তাপস বছরে আয় করেন প্রায় ১০ কোটি টাকা, আর বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী ইশরাক হোসনের বাৎসরিক আয় প্রায় ১ কোটি টাকা। তাপসের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদও প্রায় সোয়া শ’ কোটি টাকা। আর ইশরাকের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ সাড়ে ৫ কোটি টাকার মতো।

প্রার্থীদের হলফনামা নিয়ে কাজ করছে সুশাসনের জন্য নাগরিক বা সুজন। গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সচেতন নাগরিকদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই সংগঠনটির নির্বাহী সদস্য অধ্যাপক তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘প্রার্থীদের দেয়া তথ্য কতটা সঠিক সেটি নিয়ে অনেকের মনেই সংশয় আছে। সম্পদের বিবরণের মাধ্যমে অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য বের হয় এবং এগুলো বেশ আলোচিত হয়।’

ইলেকশন কমিশনের কাজ হচ্ছে এ তথ্যগুলো চ্যালেঞ্জ করা। নির্বাচন কমিশন যদি এগুলো যাচাই করে দেখে তাহলে বিরাট কার্যকারিতা এসে যায়। সম্পদের হিসেবে যাচাই না করে নির্বাচন কমিশন তাদের দায় এড়িয়ে যাচ্ছে- এমনটা মন্তব্য করে তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘এসব তথ্য যাচাইয়ের পরেই মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা উচিত।

প্রার্থীদের দেয়া তথ্য সঠিক কিনা সেটি যাচাই করে দেখা কোন সময় সাপেক্ষ কাজ নয় বলে মনে করেন নির্বাচন পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ফেমার মুনিরা খান।

নির্বাচন বিশেষজ্ঞারা বলছেন, ‘প্রার্থীরা সম্পদের যে বিবরণ দিচ্ছেন, তাতে তথ্য গোপনের মতো বিষয় থাকতে পারে বলে তাদের আশঙ্কা। যেহেতু সম্পদের বিবরণ নির্বাচন কমিশন যাচাই করেনা সেজন্য এ হলফনামা ভোটারদের কাঙ্ক্ষিত ফল দিতে পারছেন না।’

কিন্তু নির্বাচন কমিশন কেন এসব তথ্য যাচাই করে না?
নির্বাচন কমিশনের সচিব মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, ‘প্রার্থীরা যদি হলফনামায় কোন ভুল তথ্য দিয়ে থাকে তাহলে সেটির দায়দায়িত্ব প্রার্থীর উপর বর্তায়। এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের কিছু করণীয় নেই।’

তিনি বলেন, ‘প্রার্থীদের দেয়া হলফনামা আমরা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করি যাতে জনগণ যেন এটা দেখতে পারে। ভোটাররা যাতে তাদের মূল্যায়ন করে ভোট দিতে পারেন। এটা হলো আইনগত বিষয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড যদি মনে করে যে, প্রার্থীরা যদি সম্পদের হিসেবে গরমিল করেছেন, তাহলে তারা বিষয়টিতে ব্যবস্থা নিতে পারেন।’

নির্বাচন কমিশন এতো দায়িত্ব নিলে কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন করা কঠিন হবে সব ক্ষমতা একটি জায়গায় কেন্দ্রীভূত হবার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান নির্বাচন কমিশনের সচিব নির্বাচন কমিশনের সচিব

আরো সংবাদ পড়ুন
© All rights reserved &copy | 2016 dhaka24.net
Theme Customized BY WooHostBD