রবিবার | ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং |

সিটি নির্বাচনকে বিতর্কিত করাই বিএনপি’র উদ্দেশ্য: তথ্যমন্ত্রী

ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেওয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে দলটির সমালোচনা করেছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে বিতর্কিত করতে বিএনপি অংশ নিচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের’ উদ্যোগে সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, গতকাল মির্জা ফখরুল কিছু কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, নির্বাচন যে সুষ্ঠু হয় না, সেটা দেখানোর জন্যই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। তাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে—নির্বাচনটিকে বিতর্কিত করা। তারা যে নির্বাচনে জয়লাভ করতে পারবে না, সেটা এখনই অনুধাবন করতে পারছেন।

হাছান মাহমুদ বলেন, কিছুদিন আগে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকার হঠাৎ করে পতন হবে। এর মাধ্যমে বোঝা যায় যে তারা সরকার পতনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। কিন্তু ষড়যন্ত্র করে লাভ হবে না কারণ মানুষ বিএনপির ষড়যন্ত্র সম্পর্কে অবগত রয়েছে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেবের পিতা মুসলিম লীগের নেতা ছিলেন। তিনি অনেক চোখা চোখা কথা বলতেন বলেই তার ডাকনাম ছিল চোখা মিয়া। আলমগীর সাহেব বলেছেন, আমরা সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছি কারণ নির্বাচন যে সুষ্ঠু হয় না সেটা দেখানোর জন্য। অর্থাৎ তাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে নির্বাচনকে বিতর্কিত করা। তারা যে নির্বাচনে জয়লাভ করতে পারবে না তা তারা অনুধাবন করতে পারছে। এবং তিনি সেটি খোলাসা করে বলেছেন।

তি‌নি আরও ব‌লেন, আলমগীর সাহেব আরও বলেছেন, রাস্তায় দাঁড়িয়ে জনগণকে জিজ্ঞেস করলে সবাই সরকারের বিপক্ষে বলবে। তিনি হয়তো বোঝাতে চেয়েছেন নয়াপল্টনে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে যে নেতাকর্মীরা দাঁড়িয়ে থাকে তাদের কথা। সত্য কথা হলো, পৃথিবীর অনেক জরিপকারী প্রতিষ্ঠান প্রমাণ দিয়েছেন শেখ হাসিনা যেভাবে দেশ পরিচালনা করছে সেটা আদর্শিকভাবে দেশ পরিচালনার পথ। বরং বিএনপি যেভাবে দল পরিচালনা করছে দেশের জনগণ বলবে তারা ব্যর্থ। দে‌শের ৯৫ ভাগ মানুষ বল‌বে বিএনপি দল চালা‌তে ব্যর্থ।

বিএনপির নেতাদের সুবিধাবাদী রাজনৈতিক নেতা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে আজ যে অবক্ষয় তার সূচনা করেছেন জিয়াউর রহমান। বিভিন্ন মৌসুমে যেমন খেলোয়াড়দেরকে কিনে নেওয়া হয় সেভাবেই ১৯৭৫ সালের পরে জিয়াউর রহমান অনেক সুবিধাবাদী রাজনীতিবিদদের কিনে নিয়েছিলেন। তাদের নেতৃত্বে বিএনপি’র রাজনীতি শুরু হয়েছে।

রাজনীতি ব্যক্তিগতভাবে প্রতিষ্ঠা লাভের সমান নয় উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী আরো বলেন, ক্ষমতায় যাওয়াই রাজনীতির একমাত্র লক্ষ্য নয়। আদর্শের ওপর অবিচল থেকে সংগ্রামই হলো রাজনীতি। সুস্থ রাজনীতির চর্চা দেখিয়ে গেছেন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম। তিনি অত্যন্ত নির্মোহ নির্লোভ ব্যক্তি ছিলেন।

এ সময় তিনি অ্যাডভোকেট ফাজিলাতুন নেসা বাপ্পির অকাল মৃত্যুতে তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং এক মিনিট নীরবতা পালন করেন।

বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের উপদেষ্টা অভিনেতা সৈয়দ হাসান ইমামের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক অরুণ সরকার রানা, সহ-সাধারণ সম্পাদক কণ্ঠশিল্পী রফিকুল আলম, কবি নাসির আহমেদ, আওয়ামী লীগ নেতা বলরাম পোদ্দারসহ অনেকে।

fb-share-icon35
fb-share-icon20

Enjoy this blog? Please spread the word :)