1. shahinit.mail@gmail.com : dhaka24 : ঢাকা টোয়েন্টিফোর
  2. arifturag@gmail.com : ঢাকা টোয়েন্টিফোর : ঢাকা টোয়েন্টিফোর
  3. sasujan83@gmail.com : ঢাকা টোয়েন্টিফোর : ঢাকা টোয়েন্টিফোর
  4. mdjihadcfm@gmail.com : ঢাকা টোয়েন্টিফোর : ঢাকা টোয়েন্টিফোর
বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৯:২৬ অপরাহ্ন

প্রতারণার আঁখড়া ‘জয়যাত্রা’ টিভি

ঢাকা টোয়েন্টিফোর
  • প্রকাশিত | শনিবার, ৩১ জুলাই, ২০২১

টাকার বিনিময়ে ২০০ প্রতিনিধি নিয়োগ, নেওয়া হতো ২০ হাজার থেকে লাখ টাকা, প্রতারিতরা অভিযোগ দিলেই ব্যবস্থা নেবে র‍্যাব, নিয়ম-নীতিহীন আইপি টিভির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা : তথ্যমন্ত্রী
ব্যবসায়ী হেলেনা জাহাঙ্গীরের মালিকানাধীন আইপি টিভি ‘জয়যাত্রা’ ছিল প্রতারণার আঁখড়া। এই প্রতিষ্ঠানটিতে সাংবাদিক ও কর্মী নিয়োগ থেকে শুরু করে সংবাদ প্রকাশ, লাইভ দেখানো প্রতিটি ক্ষেত্রে নেওয়া হতো মোটা অঙ্কের টাকা। বিভিন্ন অভিযোগে গত বৃহস্পতিবার রাতে র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হন হেলেনা। এরপর গতকাল শুক্রবার আইপি টিভি স্টেশনে কর্মরত তিনজন সাংবাদিকের সঙ্গে যোগাযোগ করে দৈনিক খোলা কাগজ। এ সময় ভুক্তভোগীরা জানান, জয়যাত্রা টেলিভিশনে নিয়োগ দেওয়ার জন্য কর্মীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা জামানত হিসেবে নিত কর্তৃপক্ষ। নিয়োগের পর তিন থেকে চার মাস সময়কে পরীক্ষামূলক সময় বলা হতো। পরীক্ষামূলক সময় পার হওয়ার পর কর্মীরা বেতন দাবি করলে নানা দোষত্রুটি খুঁজে চাকরি থেকে বাদ দিয়ে দেওয়া হতো। ফেরত দেওয়া হতো না জামানতের টাকাও।

টাকার বিনিময়ে নিয়োগ : ফারুক আহমেদ নামে এক প্রবাসী সাংবাদিক দৈনিক খোলা কাগজকে বলেন, জয়যাত্রা টেলিভিশনে সৌদি আরব সংবাদদাতা হিসেবে কাজ করার জন্য যোগাযোগ করেছিলাম। তারা বেশ কয়েকটি রিপোর্ট প্রচারও করেছিল। তারপর নিয়োগপত্র ও আইডি কার্ডের জন্য যোগাযোগ করা হলে তারা আমাকে ৩০ হাজার টাকা জামানত হিসেবে জমা দিতে বলে। টাকা দিতে অস্বীকার করলে তারা আর আমাকে নিয়োগ দেয়নি, আমার পারিশ্রমিকও দেয়নি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জয়যাত্রা টেলিভিশনের আরেক জেলা প্রতিনিধি বলেন, সারা দেশে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে ২০ থেকে ৫০ হাজার পর্যন্ত টাকা নিয়েছেন হেলেনা জাহাঙ্গীর। এছাড়া বিদেশে প্রতিনিধি নিয়োগের ক্ষেত্রেও নেওয়া হয়েছে ৩০ হাজার টাকা থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত।

প্রতিনিধিদের সংবাদ প্রচারেও নেওয়া হতো টাকা : এই মফস্বল সাংবাদিক আরও বলেন, জয়যাত্রা টিভির জেলা-উপজেলা পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলার জন্য ফেসবুকে একটি গ্রুপ খোলা হয়। ওই গ্রুপে একাধিক বিকাশ নম্বর দিয়ে বার্তা পাঠানো হয়েছে, যেখানে বার্ষিক চাঁদা উপজেলা প্রতিনিধি দুই হাজার ও জেলা প্রতিনিধিকে তিন হাজার টাকা পাঠাতে বলা হয়েছে। শুধু তাই নয়, প্রতিনিধিরা কোনো সংবাদ পাঠালে সেখানে বার্তা দিয়ে বলা হয়, বিকেলের আগে টাকা না পাঠালে ৮টার সংবাদে নিউজ প্রচার হবে না। এই টাকাকে জয়যাত্রা টেলিভিশনে নাম দেওয়া হয়েছে ‘কমার্শিয়াল ধার্য।’

বর্তমানে একটি জনপ্রিয় নিউজ চ্যানেলে কর্মরত এক নারী সাংবাদিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমিও চার মাস কাজ করে খালি হাতে ফিরেছি। তবে সে লজ্জার কথা এখন আর বলতে চাই না।’

চটকদার মিথ্যা বিজ্ঞাপন : কয়েক মাস আগে হেলেনা জাহাঙ্গীরের জয়যাত্রা টিভির ভোলা প্রতিনিধি তুহিন খন্দকারের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয়ের হাজেরা নামে এক নারী কর্মকর্তার কথোপকথন ভাইরাল হয়। এতে ওই নারীকে বলতে শোনা যায়-‘টাকা না পাঠালে কোনো সংবাদ প্রকাশ হবে না। টাকা না দিতে পারলে আপনাকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে নেওয়া হবে।’

অডিও ক্লিপটি ভাইরাল হওয়ার পর জয়যাত্রা কর্তৃপক্ষ দাবি করে এটি মিথ্যা ও বানোয়াট। যদিও সাংবাদিক তুহিন ফেসবুক লাইভ করে বলেন, বিজ্ঞাপন দেখে আমি জয়যাত্রা টেলিভিশনে যুক্ত হওয়ার জন্য আবেদন করি। বিজ্ঞাপনে তারা জানিয়েছিল, তাদের চ্যানেলটি স্যাটেলাইট টেলিভিশন এবং শিগগিরই লাইসেন্স পাবে। শুধু তাই নয়, হেলেনা জাহাঙ্গীর নিজে সব কর্মীকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তাকে আশ্বাস দিয়েছেন দ্রুতই জয়যাত্রা হবে স্যাটেলাইট টিভি। প্রতিনিয়ত এমন মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে তারা দুইশ’ প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়। নিয়োগের সময় আমার কাছ থেকে তারা প্রাথমিকভাবে দুই ধাপে ৩০ হাজার টাকা নেয়। এছাড়াও বিভিন্ন অজুহাতে প্রায়ই তারা আমাদের কাছ থেকে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা আদায় করত।

জয়যাত্রার অফিসে অনুমোদনবিহীন স্যাটেলাইট টিভি সরঞ্জাম : হেলেনা জাহাঙ্গীরকে ডিজিটাল মাধ্যমে অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে গ্রেফতারের পর গতকাল শুক্রবার বিকালে র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইং পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন এসব বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমরা হেলেনার জয়যাত্রা টেলিভিশনের অফিসে অভিযান চালিয়ে কার্যালয়টি সিলগালা করেছি এবং অবৈধ মালামাল জব্দ করেছি। আইপি টিভির নামে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করলেও, ওই অফিসে অনুমোদনবিহীন স্যাটেলাইট টিভি পরিচালনার সরঞ্জাম পাওয়া গেছে। এসব বিষয়ে হেলেনা জানিয়েছেন, তিনি সাম্প্রতিক সময়ে একটি স্যাটেলাইট টিভির জন্য আবেদন করার পরিকল্পনা করেছিলেন। যে কারণে আগে থেকেই এসব স্যাটেলাইট টিভি পরিচালনার সরঞ্জাম আনিয়ে রেখেছেন। তবে আমাদের সঙ্গে অভিযানে উপস্থিত থাকা বিটিআরসির কর্মকর্তারা বলেছেন, জয়যাত্রা টেলিভিশনের এসব স্যাটেলাইট সরঞ্জাম ব্যবহারের কোনো অনুমোদন নেই।

প্রতারিতরা অভিযোগ দিলেই ব্যবস্থা : র‌্যাব কর্মকর্তা খন্দকার আল মঈন বলেন, জয়যাত্রা টেলিভিশনে বিভিন্ন কর্মী এবং সাংবাদিক নিয়োগের মাধ্যমে হেলেনা জাহাঙ্গীর চাঁদাবাজি করতেন বলে আমরা ভিকটিমদের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়েছি। এছাড়া চাঁদাবাজির বিভিন্ন অডিও ক্লিপসও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। অভিযানে চাঁদাবাজি সংক্রান্ত নথিপত্রও আমরা জব্দ করেছি।

তিনি আরও বলেন, সাধারণত বিভিন্ন টিভি চ্যানেলের সাংবাদিক ও জেলা প্রতিনিধিরা বেতনভুক্ত হিসেবেই নিয়োগ পান। কিন্তু জয়যাত্রা টেলিভিশনে কারো কাছ থেকে ২০ হাজার, কারো কাছ থেকে ৩০ হাজার আবার কারো কাছ থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত চাঁদা নিয়ে প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হতো। এভাবে হেলেনা জাহাঙ্গীর সারা দেশে এমনকি বিদেশেও প্রতিনিধি নিয়োগ দিয়েছিলেন। আমি অনুরোধ জানাব যারা এভাবে জয়যাত্রা টিভির মাধ্যমে প্রতারিত হয়েছেন তারা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। আমরা আপনাদের অভিযোগের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

নিয়ম-নীতিহীন আইপি টিভি’র বিরুদ্ধে ব্যবস্থা : এদিকে নিয়ম-নীতিহীন আইপি টিভি’র বিরুদ্ধে অচিরেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

গতকাল শুক্রবার দুপুরে নিজের সরকারি বাসভবনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘কিছু আইপি টিভি অনেক সময় গুজব রটানোতে যুক্ত হয়, অসত্য তথ্য পরিবেশন ও ভাঁড়ামোতে লিপ্ত হয়। আবার দেখা যায় অনুমোদন পাওয়ার আগেই কেউ কেউ টেলিভিশন চ্যানেলের মতো অফিস খুলে বসেছে, জেলা প্রতিনিধি নিয়োগ দিচ্ছে। এ সকল বিষয়কে একটা নিয়মনীতির মধ্যে আনা প্রয়োজন।’

দেশব্যাপী ব্যাঙের ছাতার মতো আইপি টিভি খুলে যার যেমন ইচ্ছে তেমন করবে সেটা কখনও আইনসম্মত বা বাঞ্ছনীয় নয় উল্লেখ করে ড. হাছান বলেন, ভালো মানের আইপি টিভি অনুমোদন পাবে এবং যেগুলোর বিষয়ে নানা অভিযোগ আছে, সেগুলো খতিয়ে দেখে সহসাই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মন্ত্রণালয় আইপি টিভিগুলোর কাছ থেকে রেজিস্ট্রেশনের জন্য দরখাস্ত আহ্বান করেছিল। প্রায় পাঁচ শতাধিক দরখাস্ত জমা পড়েছে এবং সেগুলো যাচাই-বাছাইয়ের কাজও আমরা গুছিয়ে এনেছি। যেগুলোর মান ভালো, সেগুলোর রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হবে।

এ সময় জয়যাত্রা টিভির পরিচালনাকারী হেলেনা জাহাঙ্গীর সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ফাঁকফোকর দিয়ে দলের উপকমিটিতে এ ধরনের কারো ঢোকা সমীচীন হয়নি, এদের কমিটিতে রাখার বিষয়ে আরো সতর্ক হওয়া প্রয়োজন ছিল। যারা সুপারিশ করেছেন, তাদেরও আরো জানা শোনার দরকার ছিল। তার বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং তার আইপি টিভির বিষয়ে অভিযোগগুলো আমরা খতিয়ে দেখব, সত্যতা পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

fb-share-icon35
56

আরো সংবাদ পড়ুন




© All rights reserved &copy | 2016 dhaka24.net
Theme Customized BY WooHostBD