1. shahinit.mail@gmail.com : dhaka24 : ঢাকা টোয়েন্টিফোর
  2. arifturag@gmail.com : ঢাকা টোয়েন্টিফোর : ঢাকা টোয়েন্টিফোর
  3. sasujan83@gmail.com : ঢাকা টোয়েন্টিফোর : ঢাকা টোয়েন্টিফোর
  4. mdjihadcfm@gmail.com : ঢাকা টোয়েন্টিফোর : ঢাকা টোয়েন্টিফোর
শনিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২১, ০৫:০৮ অপরাহ্ন

বিতর্কিত যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে নানা সঙ্কট

ঢাকা টোয়েন্টিফোর
  • প্রকাশিত | মঙ্গলবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২১

বিতর্কিত যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে নানা সঙ্কট রয়েছে। দিনের পর দিন সমস্যার সমাধান না হওয়ায় একের পর এক ঘটছে অঘটন। খুন-জখম, মারামারি, আত্মহত্যা চেষ্টা ও পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা এখন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। ফলে বিতর্ক কেন্দ্রটির পিছু ছাড়ছে না।
দুর্বল নিরাপত্তা, ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত বন্দি, একসঙ্গে সব বয়সী শিশু রাখা, অবকাঠামো এবং জনবল সঙ্কট কেন্দ্র পরিচালনা ব্যহত হচ্ছে। নানা অপরাধে জড়িত ৩২ জেলা থেকে শিশুদের এখানে রাখা হয়।

শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র সঠিকভাবে পরিচালনায় দীর্ঘমেয়াদী সংস্কার এখন সময়ের দাবি। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন থেকে তাগিদ দেওয়া হলেও বাস্তবায়ন নেই। ফলে বার বার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসছে যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান শিশু কেন্দ্রটি পরিদর্শন করে সেখানকার বাস্তবচিত্র তুলে ধরে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে একটি প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন। প্রতিবেদনে বেশ কিছু সুপারিশও করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান বলেন, ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত বন্দি থাকায় বয়স কিংবা অপরাধের ধরণ অনুযায়ী তাদের আলাদা রাখা সম্ভব হয় না। সব বয়সী বন্দিকে একসঙ্গে রাখায় অনেক সমস্যা হচ্ছে। কেন্দ্রের সব সমস্যা সমাধানে দীর্ঘমেয়াদী সংস্কার প্রয়োজন। সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। আপাতত অবকাঠামোগত সংস্কারের বরাদ্দ পাওয়া গেছে। দ্রুত টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হবে।

এ প্রসঙ্গে যশোরের পুলিশ সুপার আশরাফ হোসেন বলেন, শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রটি সাধারণ কারাগারের চেয়ে কম নয়। কিন্তু নিরাপত্তা ব্যবস্থা খুব দুর্বল। এখানকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে হবে। নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে।

২০২০ সালের ২২ সেপ্টেম্বর সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর পাঠানো জেলা প্রশাসকের পরিদর্শন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের মাধ্যমে খুলনা, বরিশাল, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ৩২ জেলার আইনের সঙ্গে সংঘাতে জড়িত বা আইনের সংস্পর্শে আসা শিশুদের রক্ষণাবেক্ষণ, কারিগরি প্রশিক্ষণ, লালন পালন ও পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

এই কেন্দ্রে বর্তমান (সেপ্টেম্বর) নিবাসী ৩৩২ জন বন্দি রয়েছে। তাদের মধ্যে ৯ থেকে ১২ বছর বয়সী ২ জন, ১৩-১৬ বছর বয়সী ১৬৫ জন, ১৭-১৮ বছর বয়সী ১৩১ জন, ১৮ বছরের বেশি বসয়ী ২৪ জন ও বয়স উল্লেখ নেই ১০ জনের। মোট বন্দির ১০৮ জন হত্যা মামলায়, ৮২ জন নারী শিশু নির্যাতন, ৬৪ জন মাদকদ্রব্য আইনে, ছয় জন অস্ত্র আইনে, আট জন সাজাপ্রাপ্ত, ৩২ জন চুরি মামলায়, সাত জন নিরাপত্তা হেফাজতে ও অন্যান্য মামলায় ২৫ জন রয়েছেন।

যত সঙ্কট

কেন্দ্রটিতে তিনতলা বিশিষ্ট দুটি ভবনে যথাক্রমে একশ’ ও পঞ্চাশ জন (মোট ১৫০জন) শিশুর আবাসনের ব্যবস্থা রয়েছে। ভবন দুটির নিচতলার জানালার গ্রিল সাধারণ মানের হওয়ায় নিরাপত্তাজনিত কারণে ব্যবহৃত হচ্ছে না। অর্থাৎ মোট আবাসন ব্যবস্থার এক তৃতীয়াংশ বর্তমানে অব্যবহৃত আছে। ১৫০ জনের ধারণ ক্ষমতার আবাসনে ৩৩২ জন বসবাস করছে।

কেন্দ্রের অনুমোদিত জনবল ৪৯ জন হলেও বর্তমানে কর্মরত আছে ২৪ জন। ২৫টি পদ শূণ্য রয়েছে। অবিলম্বে শূণ্যপদ পূরণ করা প্রয়োজন। কেন্দ্রের ধারণ ক্ষমতা এবং জনবল কাঠামো পুনঃমূল্যায়ন হওয়া আবশ্যক। উঠতি বয়সী তিন শতাধিক শিশুর অধিকাংশ অপরাধপ্রবণ, সার্বিক দেখাশুনা ও ব্যবস্থাপনার জন্য এ শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের জনবল ও আবাসান ব্যবস্থা একেবারেই অপ্রতুল।
শিশুদের শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকলেও নিবাসী সংখ্যার বিচারে তা খুবই অপর্যাপ্ত। শিশুদের জন্য যে একটি খেলার মাঠ রয়েছে তাও সংখ্যার তুলনায় কম। শিশুদের প্রশিক্ষণ, পড়াশুনার ব্যবস্থা করা এবং কাউন্সিলিং এর মাধ্যমে অপরাধপ্রবণতা থেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা থাকা দরকার।

শিশু আইন ২০১৩ এর ৬৩(২) ধারায় উল্লেখ রয়েছে ‘প্রত্যয়িত প্রতিষ্ঠানে অবস্থানরত শিশুদের অপরাধের মাত্রা, ধরণ ও বয়স বিবেচনায় লইয়া বিভিন্ন শ্রেণিতে বিভক্ত রাখিতে হইবে। এমতাবস্থায় শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের নিবাসী সংখ্যা হ্রাসকরণ নিবাসী বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা এবং বয়স ও অপরাধের ধরণ বিবেচনায় বিভিন্ন শ্রেণিতে বিভক্ত করে রাখার ব্যবস্থা গ্রহণ করা আবশ্যক।’

ওই প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, প্রতিমাসে খাওয়া বাবদ মাথাপিছু আড়াই হাজার টাকা ও চিকিৎসা, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, তেল, সাবান ও পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা বাবদ এক হাজার টাকা দেয়া হয়। কিন্তু ভ্যাট বাদে যে টাকা থাকে, তাতে বন্দিদের খাওয়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য ব্যয় চালানো কষ্টসাধ্য হচ্ছে। কেন্দ্রের নিবাসী তিন শতাধিক শিশুর চিকিৎসার জন্য মাত্র একজন কম্পাউন্ডারের পদ রয়েছে। নিবাসী শিশুদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য সার্বক্ষণিক চিকিৎসকের পদ সৃষ্টি করা প্রয়োজন।

নিরাপত্তার বিষয়টি উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, কেন্দ্রের নিবাসী শিশুদের মধ্যে পালিয়ে যাওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কেন্দ্রের চতুর্দিকের সীমানা দেয়ালের বাইরের অংশে অনেকগুলো লম্বা গাছ থাকায় কোনো শিশু যদি কোনোভাবে দেয়ালের ওপর উঠতে পারে তার পক্ষে গাছ বেয়ে নিচে নামা কঠিন নয়। এক্ষেত্রে কেন্দ্রের সীমানা দেয়াল সংলগ্ন গাছ অপসারণ ও সীমানা দেয়ালের উপর কাটাতারের ফেন্সিং করা প্রয়োজন।

যত অঘটন

যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে প্রায়ই অঘটন ঘটে। সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বে অবহেলা, দুর্নীতির কারণে প্রতিষ্ঠানটিতে অনিয়ম জেঁকে বসেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আরও একবার জেলা প্রশাসন গঠিত তদন্ত কমিটি প্রতিষ্ঠানটি সুষ্ঠুভাবে চালানোর জন্য একগুচ্ছ সুপারিশ করেছিল। কিন্তু অবস্থার উন্নতি হয়নি; বরং অবনতি হয়েছে।

২০২০ সালের ১৩ আগস্ট তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ১৮ বন্দি শিশুর উপর নির্মম নির্যাতন চালায়। এতে তিন শিশু নিহত এবং ১৫ জন আহত হয়। ওই ঘটনায় পাঁচ কর্মকর্তা ও সাত বন্দি শিশুর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। যা বর্তমান বিচারধীন।
নির্যাতনে মৃত্যু হওয়া তিন কিশোররা হলো- বগুড়ার শিবগঞ্জের তালিবপুর পূর্ব পাড়ার নান্নু প্রামানিকের ছেলে নাঈম হোসেন (১৭), খুলনার দৌলতপুরের রোজা মিয়ার ছেলে পারভেজ হাসান রাব্বি (১৮) ও বগুড়ার শেরপুর উপজেলার মহিপুর গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে রাসেল ওরফে সুজন (১৮)।

৬ ডিসেম্বর গভীর রাতে কেন্দ্রের আবাসিক ভবনের জানালা ভেঙে আট কিশোর অপরাধী পালিয়ে যায়। তারা হলো- যশোরের হৃদয়, ফারদিন, আব্দুল কাদের, খুলনার রোহান গাজী, সোহাগ শেখ, নড়াইলের মুন্না গাজী, গোপালগঞ্জের শাহ আলম, বরিশালের মাইনুর রহমান শাকিব।

২০১১ সালের ২৯ আগস্ট আকাশ (১২) নামে এক শিশুকে প্রথমে শ্বাসরোধ ও পরে টিনের টুকরো দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। ২০১৯ সালের ৩০ জুন যশোর কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে নূর ইসলাম (১৫) নামে এক শিশু আত্মহত্যা করে। এ ছাড়া ২০১৪ সালে ৫ মে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। দর্শনার্থী একজন অভিভাবককে মারধরের অভিযোগের জের ধরে এ সংঘর্ষ হয়। এতে দুই পুলিশসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়। এ ঘটনার পর কেন্দ্রের আটজন পুলিশকে প্রত্যাহার করে অন্য একটি দলকে দায়িত্ব দেয়া হয়।

কয়েকদিন আগে আরও অন্তত চার জন বন্দি পালিয়ে যায়। এ ছাড়াও বেশ কয়েকজন বন্দি সম্প্রতি আত্মহত্যার চেষ্টা করে।

fb-share-icon35
56

আরো সংবাদ পড়ুন




© All rights reserved &copy | 2016 dhaka24.net
Theme Customized BY WooHostBD