1. shahinit.mail@gmail.com : dhaka24 : ঢাকা টোয়েন্টিফোর
  2. arifturag@gmail.com : ঢাকা টোয়েন্টিফোর : ঢাকা টোয়েন্টিফোর
  3. sasujan83@gmail.com : ঢাকা টোয়েন্টিফোর : ঢাকা টোয়েন্টিফোর
  4. mdjihadcfm@gmail.com : ঢাকা টোয়েন্টিফোর : ঢাকা টোয়েন্টিফোর
অমির বাসায় ৩ নারী নিয়ে পালিয়েছিলেন নাসির - Dhaka 24 | Most Popular News | Breaking News | English | Bangla
May 26, 2022, 2:19 am

অমির বাসায় ৩ নারী নিয়ে পালিয়েছিলেন নাসির

Reportar Name
  • Update Time | Tuesday, June 15, 2021,

পরীমণির সংবাদ সম্মেলনের পর থেকে ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ তিনজন নারী সঙ্গী নিয়ে কস্টিউম ডিজাইনার অমির বাসায় পালিয়েছিলেন। আর সে বাসা থেকেই সোমবার দুপুরে নাসির, অমি ও ওই তিন নারীকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি-উত্তর) যুগ্ম কমিশনার হারুন অর রশিদ সাংবাদিকদের বলেন, এটা পরীমণির কস্টিউম ডিজাইনার অমির বাসা। পরীমণির সংবাদ সম্মেলনের পর থেকে নাসির তার তিনজন নারী সঙ্গী নিয়ে এই বাসায় নাসির পালিয়ে ছিলেন। মাদক রাখার অভিযোগে সেই তিনজনকেও আমরা গ্রেফতার করেছি।

অভিযুক্ত নাসির উদ্দিন মাহমুদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নাসিরের বিরুদ্ধে আগে মাদক ও নারী নির্যাতনের মামলা হয়েছে। নানা অভিযোগে তাকে উত্তরা ক্লাব থেকে বহিষ্কারও করা হয়েছে বলে তথ্য রয়েছে। তার বিরুদ্ধে কেউ যদি অভিযোগ করে, তবে আমরা সেগুলোও তদন্ত করব।

পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, পরীমণিকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার ঘটনা নিয়ে রোববার (১৩ জুন) রাতে সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনের পরপরই আমরা অভিযানের প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। তবে রাতে মামলা না হওয়ার কারণে গোয়েন্দা পুলিশ অ্যাকশনে যাইনি। সাভার থানায় দায়ের করা মামলার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর আমরা অভিযুক্তদের গ্রেফতার করি।

হারুন বলেন, অভিযানে মাদক উদ্ধারের মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গ্রেফতার আসামিদের মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তবে পরীমণির দায়ের করা মামলায় আসামি নাসির ও অমিকে ঢাকার সাভার থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

পরীমণি ঢাকা বোট ক্লাবের সদস্য নন, তবে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন কেন? সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডিবির যুগ্ম কমিশনার হারুন অর রশিদ বলেন, পরীমণি স্বনামধন্য একজন নায়িকা। তিনি ওখানে (বোট ক্লাব) যেতেই পারেন। তিনি সেখানে গেলেই যে তাকে হয়রানি করবে সেটা ঠিক না। আসলে কী ঘটেছে তা বিস্তারিত তদন্ত করে বলতে পারব।

এদিকে নাসিরের বাসায় অভিযানকালে বিদেশি মদ ও ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। যুগ্ম-পুলিশ কমিশনার হারুন অর রশীদ বলেন, অভিযানকালে নাসিরের বাসা থেকে বিদেশি মদসহ অন্যান্য মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়। তার বাসায় উঠতি বয়সী নারীরা এসে মদ পান করতেন বলে আমরা তথ্য পেয়েছি। তার বাসায় ডিজে পার্টির আয়োজন ছিল।

হারুন অর রশীদ আরও বলেন, গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা করা হবে।

প্রসঙ্গত, ব্যবসায়ী নাসির ইউ মাহমুদসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে সাভার থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার (১৪ জুন) সকালে মামলাটি দায়ের করা হয়। এতে নাসিরসহ দুইজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও আরও ৪ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। বিষয়টির সত্যতা গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন সাভার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাইনুল ইসলাম। তিনি বলেন, পরীমণি নিজে বাদী হয়ে মোট ৬ জনের নামে এ মামলা করেছেন (মামলা নম্বর ৩৮)।

আর এ মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ। সোমবার দুপুরে উত্তরা ১ নম্বর সেক্টরের ১২ নম্বর রোডে নাসির উদ্দিনের বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম শাখা থেকে জানানো হয়েছে, পরীমণির মামলায় এখন পর্যন্ত ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার বাকি চারজন হলেন অমি, লিপি, সুমি ও স্নিগ্ধা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (উত্তর) যুগ্ম কমিশনার হারুন অর রশিদ।

এদিকে চিত্রনায়িকা পরিমণির নিরাপত্তার জন্য বিশেষ প্রহরার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নূরে আজম মিয়া। সোমবার(১৪ জুন) সকালে গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান তিনি।

ওসি নূরে আজম বলেন, ‘তিনি যেহেতু নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন, আমাদের দায়িত্ব প্রত্যেক নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তাকে আমরা বিশেষ প্রহরায় রাখছি। তার বাসা ও আশপাশে পুলিশ আছে। তার নিরাপত্তার জন্য যা যা করণীয়, তা–ই করা হচ্ছে।’

আজ সরেজমিনে পরীমণির বাসায় দেখা যায়, এক ভ্যান পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এর আগে ব্যবসায়ী নাসির ইউ মাহমুদসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে সাভার থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার সকালে মামলাটি দায়ের করা হয়। এতে নাসিরসহ দুইজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও আরও ৪ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। বিষয়টির সত্যতা গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন সাভার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাইনুল ইসলাম। তিনি বলেন, পরীমণি নিজে বাদী হয়ে মোট ৬ জনের নামে এ মামলা করেছেন (মামলা নম্বর ৩৮)।

তার আগে সোমবার সকালে রূপনগর থানার মাধ্যমে লিখিত অভিযোগ করেন পরীমণি। সকালে ডিএমপির মিরপুর বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) আ স ম মাহতাব উদ্দিন জানান, পরীমণি রুপনগর থানা ও সাভার থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। ঘটনাটি যেহেতু সাভার থানার অন্তর্গত সেহেতু রুপনগরের অভিযোগটি আমরা সাভারে পাঠিয়ে দিয়েছি। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি বলে জানান তিনি।

এর আগে রোববার (১৩ জুন) প্রথমে ফেসবুকে দীর্ঘ স্ট্যাটাসে অভিযোগ তোলার পর রাত সাড়ে ১০টায় তার বনানীর বাসভবনে সংবাদ সম্মেলন ডাকেন এই অভিনেত্রী।

সংবাদ সম্মেলনে পরীমণি বলেন, ‘গত চারদিন ধরে একজন সাধারণ মেয়ে হিসেবে আমি দ্বারে দ্বারে ঘুরেছি। কিন্তু কারো হেল্প পাইনি। সবাইকে বলেছি, আমি সুইসাইড করার মতো মেয়ে না। যদি আমি মরে যাই, মনে করবেন আমাকে মেরে ফেলা হয়েছে। আর আপনাদের কাছে আমার অনুরোধ আপনারা আমাকে হত্যার বিচার করবেন।’

এর আগে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে আলোচিত এই অভিনেত্রী জানান, নাসির ইউ মাহমুদ নামে একজন তাকে নেশাজাতীয় কিছু খাইয়ে এ ঘটনা ঘটাতে চেষ্টা করেছিলেন।

পরীমণি বলেন, ‘আমার কস্টিউম ডিজাইন করেন জিমি, আমাদের কাজের বাইরেও পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে। তার মাধ্যমে অমির সঙ্গে আমার পরিচয়। উনি বাসায় আসেন চারদিন আগে (ঘটনাটির দিন রাতে)। এর আগে সিনেমার ব্যাপারে মিটিংয়ের জন্য ডেট চাচ্ছিল কিন্তু আমি সময় দিতে পারছিলাম না। আমার নানু কয়েকদিন আগে অসুস্থ ছিলেন সেটা আপনারা জানেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘গত বুধবার রাত ১২টায় আমাকে বিরুলিয়ায় নাসির ইউ মাহমুদের কাছে নিয়ে যায় অমি। সেসময় নাসির ইউ মাহমুদ নিজেকে ঢাকা বোট ক্লাবের সভাপতি হিসেবে পরিচয় দেন। সেখানে নাসির ইউ মাহমুদ আমাকে মদ খেতে অফার করে। আমি রাজি না হলে আমাকে জোর করে মদ খাওয়ানোর চেষ্টা করে। একপর্যায়ে আমাকে চড় থাপ্পড় মারে। তারপর আমাকে নির্যাতন ও হত্যা চেষ্টা করেন। অমিও এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত।’

এরপর সাংবাদিকদের সামনে নিজের জীবন নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন বলে জানান পরীমণি। একই সঙ্গে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। নিজের সঙ্গে ঘটা এমন অপ্রীতিকর ঘটনা কোনোভাবেই মানতে পারছেন না পরীমণি। তাই এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন তিনি।

নাসির ইউ মাহমুদ ঢাকা বোট ক্লাবের সদস্য। তিনি ৩৭ বছর ধরে ডেভেলপার ব্যবসায়ে আছেন। ১০ বছর ধরে মাহমুদ কুঞ্জ ডেভেলপার্স লিমিটেডের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে রয়েছেন। কুঞ্জ ডেভেলপার্সের আগে তিনি মাহমুদ বিল্ডার্স অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েশনের এমডি ছিলেন।

তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সয়েল, ওয়াটার অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট বিভাগ থেকে পড়াশোনা করেন। তিনি ও তার প্রতিষ্ঠান সরকারের গণপূর্ত অধিদফতর, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি), শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতর (ইইডি), রাজউক, রেলওয়েসহ সরকারি-বেসরকারি নানা ঠিকাদারি কাজ করেন।

উল্লেখ্য, নাসির উদ্দিন মাহমুদ বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কনস্ট্রাকশন ইন্ডাস্ট্রির (বিএসিআই) সাবেক নির্বাহী পরিষদের সদস্য। তিনি ২০১৫, ২০১৬ এবং ২০১৭ সালের উত্তরা ক্লাবের নির্বাচিত সভাপতি, লায়ন ক্লাবের ঢাকা জোনের চেয়ারম্যান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএম হলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এছাড়াও তিনি জাতীয় পার্টির (জাপা) একজন প্রেসিডিয়াম সদস্য। ২০২০ সালের ২৮ ডিসেম্বর জাপার ৯ম কাউন্সিলে তাকে প্রেসিডিয়াম সদস্য করা হয়।

More news
© All rights reserved &copy | 2016 dhaka24.net
Theme Customized BY WooHostBD