1. shahinit.mail@gmail.com : dhaka24 : ঢাকা টোয়েন্টিফোর
  2. arifturag@gmail.com : ঢাকা টোয়েন্টিফোর : ঢাকা টোয়েন্টিফোর
  3. sasujan83@gmail.com : ঢাকা টোয়েন্টিফোর : ঢাকা টোয়েন্টিফোর
  4. mdjihadcfm@gmail.com : ঢাকা টোয়েন্টিফোর : ঢাকা টোয়েন্টিফোর
শুক্রবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০২:২৮ পূর্বাহ্ন

উত্তরায় দারোয়ান হত্যার রহস্য উদঘাটন, গ্রেফতার-২

আলী হোসেন (শ্যামল)
  • প্রকাশিত | মঙ্গলবার, ১৩ জুলাই, ২০২১

উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকায় বাড়ির দারোয়ান সুবল পাল হত্যা ঘটনায় জড়িত ২ জনকে গ্রেফতার করেছে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, মাসুদ রানা (৩২), মিজানুর রহমান (২৬)। তাদেরকে সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি থানার সুবর্ণ সাড়া এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

উল্লিখিত গত ১১ জুলাই রাতের আঁধারে হাত পা বেঁধে হত্যা বাড়ির দারোয়ান সুবল পাল (৪৪) কে হত্যা করা হয়। ফজরের সময় বাড়ির মালিক নামাজের জন্য বের হলে বাড়ির প্রধান দরজা খোলা দেখতে পায়, পড়ে বাড়ির মালিক নামাজ পড়ে এসে দেখে নিজ কক্ষে হাত পা বাঁধা অবস্থায় পড়ে আছে দারোয়ান সুবল পাল। তারপর বাড়ির মালিক ৯৯৯ এ কল দিয়ে পুলিশ কে জানায়। পরে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ/ সিআইডি এসে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। এবং ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার কৃত আলামত ও সিসি টিভি ফুটেজ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে হত্যা রহস্য তদন্ত শুরু করে। এ বিষয়ে, ১৩ ই জুলাই উত্তরা বিভাগের উপ – পুলিশ কমিশনার জনাব সাইফুল ইসলাম সাংবাদিক সম্মেলনে সাংবাদিকদের জানায়,

গত ১২ জুলাই উত্তরার পশ্চিম থানার একটু টীম সিরাজগঞ্জের বেলকুচি থানার সুবর্ণ ছাড়া এলাকা থেকে কেয়ারটেকার সুবল হত্যায় সরাসরি জড়িত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে। এ সময়ে প্রথম আসামি মাসুদ রানার কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডের সময় পড়া জামার পুড়িয়ে দেওয়া অংশ এবং দ্বিতীয় আসামি মিজানুর রহমানের কাছ থেকে রক্তমাখা জামা উদ্ধার করা হয়। এমনকি তাদের স্বীকারোক্তি মতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কাঁচিটিও উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, উক্ত বাসার দারোয়ান ও অন্যান্য সদস্যদের আটক ও জিম্মি করে টাকা-পয়সা লুটপাটের উদ্দেশ্যে তারা সিরাজগঞ্জ থেকে ঢাকায় আসে। গভীর রাতে বাড়ির দারোয়ান এর হাত-পা বেঁধে জিম্মি করে বাড়ির মালিক ফজরের নামাজ পড়তে মসজিদে যাবার সময় দরজা খুললে সে সময় তারা ঘরে প্রবেশ করে বাড়ির সদস্যদের আটক করে মালামাল লুটপাট করার পরিকল্পনা নেন। আটক কৃত প্রথম আসামি মাসুদ ওই বাসায় ড্রাইভার হিসেবে কাজ করতো এবং তখন থেকেই সে ওই বাসায় ইয়াবা সেবন করত এবং মেয়ে নিয়ে এসে দারোয়ানের কক্ষ টি ব্যবহার করত। হত্যাকাণ্ডের আগেরদিন প্রথম আসামি মাসুদ দারোয়ান সুবল পাল কে জানায় যে, মাসুদ ঢাকায় তার চাচাতো ভাই সহ আসবে এবং দারোয়ান সুবল পালের কক্ষে রাত কাটাবে ও ইয়াবা সেবন করবে। সেই অনুযায়ী ১১ জুলাই আনুমানিক রাত ১২:৩০ সময় বাড়ির দারোয়ান সুবল পাল গেট খুলে দিলে মাসুদ ও মিজানুর তারা বাড়ির ভিতর প্রবেশ করে এবং দারোয়ানের কক্ষে অবস্থান নেয়। সেই সময় আসামিরা দারোয়ানের এর কক্ষে ইয়াবা সেবন করে এবং রাত আনুমানিক ৩:৩০ সময় ঘুমন্ত অবস্থায় সুবল পালের হাত-পা বাঁধার উদ্দেশ্যে মাসুদ রানা বাইরে ঝুলন্ত কাপড় শুকানোর একটি নাইলনের রশি কেটে নিয়ে আসে। উক্ত রশি দিয়ে আসামি মাসুদ ও মিজান সুবল পালের হাত-পা বাঁধতে গেলে সে ঘুম থেকে জেগে যায়। তখন মাসুদ রানা আগে থেকে উক্ত ঘরে থাকা একটি কেচির ধারালো ফলা সুবল পালের গলায় ধরে তাকে চুপ থাকতে বলে। আসামি মিজান দারোয়ান সুবল পালের গলায় নাইলনের রশি পেচিয়ে ধরে এবং ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে মাসুদ রানা দারোয়ানের গলায় কেচির ধারালো ফলা ঢুকিয়ে দেয় এতে করে রক্তক্ষরণ শুরু হলে মিজান ও মাসুদ তারা সুবল পাল এর গলায় কেচি টি গভীরে প্রবেশ করিয়ে ও গলা টিপে ধরে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে। হত্যার সময় আসামি দুইজন সুবল পালের মুখ চেপে ধরলে আসামি মাসুদ ও মিজানের হাতে নিহত সুবল পাল কামড় দিয়ে বাঁচার চেষ্টা করে। উক্ত হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রের আঘাতে আসামি মাসুদ রানার হাতে একাধিক স্থানে ক্ষতচিহ্ন সৃষ্টি হয়।হত্যা নিশ্চিত করার পর আসামিরা ভালো করে মৃত ব্যক্তির হাত-পা বাঁধে। তারপর রানা ও মিজান সুবল পালের রুমের বাহিরে থাকা পানির কলে শরীর থেকে রক্তের দাগ ধুয়ে ফেলে এবং জামা কাপড় ধুয়ে রক্তের ছাপ মুছে ফেলার চেষ্টা করে। এমন অবস্থায় আসামিরা উক্ত বাড়ির মালিকের বাসায় লুটপাটের পরিকল্পনা ত্যাগ করে এবং সুবল পালের কক্ষে রাখা গেটের চাবি দিয়ে তালা খুলে মাসুদ ও মিজান বাসা থেকে বের হয়ে যায়। বিভিন্ন যানবাহন ব্যবহার করে তারা তাদের নিজ গ্রাম সিরাজগঞ্জে পালিয়ে যায়। এবং আসামি মাসুদ রানা আলামত গোপন করার উদ্দেশ্যে তার শরীরে পড়া রক্তমাখা শার্ট খুলে পুড়িয়ে ফেলে।

১ নং আসামী মোঃ মাসুদ রানা পেশায় একজন ড্রাইভার। দের মাস পূর্বে উক্ত বাড়িতেই সে ড্রাইভারি চাকরি করতো। পরে চাকরি ছেড়ে দিয়ে সিরাজগঞ্জে কারখানায় দেই চাকরি নেয়।

২য় আসামি মোঃ মিজানুর রহমান স্থানীয়ভাবে মাঝে মাঝে অটো রিক্সা চালায় বলে জানা গেলেও মিজান এর প্রধান পেশা ডাকাতি বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে।

এর আগেও ২০২০ সালের অক্টোবরের ২২ তারিখের ডাকাতির প্রস্তুতিকালে বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম থানা তাকে অস্ত্রসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছিল।

উক্ত সুবল পাল হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু করা হয়েছে যার মামলা নং ০৭, তারিখ ১১/০৭/২০২১, ধারা ৩২০/৩৪ পেনাল কোড। উক্ত বিষয়ে আসামিদের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ সহ অন্যান্য আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং আসামিদের ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।

fb-share-icon35
56

আরো সংবাদ পড়ুন




© All rights reserved &copy | 2016 dhaka24.net
Theme Customized BY WooHostBD