August 31, 2025, 12:06 pm

বরিশালে পুলিশের কঠোর নজরদারি, প্রবেশ মুখে ক্যামেরা স্থাপন

Reporter Name 141 View
Update : Saturday, April 25, 2020

বরিশাল | ঢাকা২৪ডটনেট:
বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলে ছোবল মেরেছে কোভিড-১৯ প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস। এরইমধ্যে করোনার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলা-উপজেলার গ্রাম-গঞ্জে। বরিশাল বিভাগের একমাত্র দ্বীপ জেলা ভোলা ছাড়া বাকি পাঁচটি জেলায় ভাইরাসের সংক্রমণ সন্ধান পাওয়া গেছে। এর মধ্যে প্রথম ভাইরাস শনাক্ত হয় বিভাগের উপকূলীয় অঞ্চল পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলায়। সেখানে একজন উপজেলা চেয়ারম্যান ও এক পোশাক শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় নড়েচড়ে বসে গোটা বিভাগ।

পর্যায়ক্রমে ধীরে ধীরে ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে বরিশাল, ঝালকাঠি ও পিরোজপুর জেলায়। বিশেষ করে বরিশাল জেলায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। জেলার অধীনস্থ সিটি কর্পোরেশনসহ দশটি উপজেলায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত শনাক্ত হয়।

পরিসংখ্যানে দেখা যায় বরিশাল সদরে করোনায় আক্রান্তদের বেশিই শেবাচিম হাসপাতাল থেকে ছড়িয়েছে। যারা আক্রান্ত হয়েছেন তাদের মধ্যে সাতজনই চিকিৎসক এবং একজন নার্স। সেক্ষেত্রে ধারণা করা হচ্ছে বরিশাল সদরে এখনো এই ভাইরাস মারাত্মকভাবে ছড়ায়নি।

তাই প্রাণঘাতী করোনার বিস্তার রোধে একেরপর এক উদ্যোগ নিয়েছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ। সবশেষ তারা করোনার বিস্তার রোধে জানাজা নামাজ ও দাফন কাজে লোকসমাগম ঠেকাতে কারফিউ জারি করেছেন মুসলিম গোরস্থানসহ তৎসংলগ্ন এলাকায়।

অবশ্য করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় অনেক আগে থেকেই প্রস্তুতির কমতি ছিল না বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের। করোনা পরিস্থিতিতে পুলিশের এই ইউনিটের ভূমিকা সারাদেশে নজিরবিহীন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

বরিশাল নগর পুলিশ কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন খান এর নির্দেশনায় শুরু থেকেই করোনায় স্বাস্থ্য সম্পর্কিত সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে প্রচার প্রচারণা, জীবাণুনাশক পানি স্প্রে করে নগরী ধুয়ে ফেলা, মানুষের ঘরে থাকা নিশ্চিত করা, মধ্যবিত্ত পরিবারে লুকিয়ে রাতের আধারে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া এমনকি করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হওয়া ব্যাক্তিদের জানাযা ও দাফন কাফনে ব্যবস্থা করে দেয়ায় তাদের কার্যক্রম বেশ প্রশংসিত হচ্ছে।

শুধু তাই নয়, করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাহির থেকে কোন লোক প্রবেশ ও বাহির ঠেকাতে বরিশাল মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে বসানো হয়েছে বিশেষ নজরদারী চেকপোস্ট। প্রথমদিকে ছোট-বড় মিলিয়ে মোট দশটি চেকপোস্ট স্থাপন করা হলেও সেই সংখ্যা এখন বড়িয়ে ১১টি করা হয়েছে। এসব স্থানে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারে কাজ করছে নগর পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যরা।

এদিকে শুধুমাত্র পুলিশের চেকপোস্ট নয়, এর পাশাপাশি নজরদারি জোড়দার করার জন্য বসানো হচ্ছে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা। এরই মধ্যে বরিশাল মহানগরীর তিনটি স্থানে বসানো হয়েছে সিসি ক্যামেরা। একটি বরিশাল-পটুয়াখালী ও ভোলা মহাসড়কের মধ্যবর্তী বন্দর থানাধীন জিরো পয়েন্টে বসানো হয়েছে।

অপর দুটির একটি বরিশাল-ঝালকাঠি মহাসড়কের কোতোয়ালি মডেল থানাধীন কালিজিরা ব্রিজ এবং অপরটি বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের বাবুগঞ্জ উপজেলার নতুনহাট নামক স্থানে। আর নতুন চেকপোস্ট বসানো হয়েছে বরিশাল-বাবুগঞ্জের বাইপাস সড়কের বটতলা নামক স্থানে।

তবে এর আগে থেকেই এয়ারপোর্ট থানাধীন করাপুর স্টিল ব্রিজ, রহমতপুর সড়ক মোড়, লাকুটিয়া সড়ক, নগরীর নথুল্লাবাদ, গড়িয়ার পাড়, বন্দর থানাধীন লাহারহাট, তালুকদার হাট, খয়রাবাদ ব্রিজ, কোতয়ালী মডেল থানাধীন কালিজিরা ব্রিজ ও রূপাতলীতে চেক পোস্ট স্থাপন করা হয়।

এ ব্যাপারে বরিশাল নগর পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার ও স্টাফ অফিসার মো. আব্দুল হালিম জানান, কমিশনার স্যারের নির্দেশনা অনুযায়ী শুরু থেকেই আমরা শক্তসমর্থ হবে কাজ করছি। যাতে বরিশাল মহানগরী করনা মুক্ত রাখা যায়।

তিনি বলেন, চেকপোস্ট গুলোতে কারা আসছে, কারা যাচ্ছে ও পুলিশ সদস্যরা তারা সঠিকভাবে দায়ীত্ব পালন করছে কিনা সে বিষয়টি তদারকির জন্যই সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। যা কমিশনার স্যার নিজেই কার্যালয়ে বসে মনিটরিং করছেন।

তিনি আরো বলেন, এই মুহূর্তে বরিশাল নগরীতে প্রবেশ এর সকল পথেই চেকপোস্ট রয়েছে। শুধুমাত্র বরিশাল-বাবুগঞ্জের অভ্যন্তরীন বাইপাস সড়কে কোন চেকপোস্ট ছিলনা। কিন্তু বাবুগঞ্জ উপজেলা করোনা ভাইরাসের জন্য ক্রমশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।

সরকারের স্বাস্থ্য সম্পর্কিত দিক নির্দেশনা মেনে সকলকে ঘরে থাকার আহ্বান জানিয়ে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, করোনাভাইরাস থেকে রক্ষা পাওয়ার এটাই একমাত্র পথ বা উপায়। তাই কষ্ট করে হলেও কিছু দিনের জন্য নিজের এবং পরিবারের কথা ভেবে ঘরে থাকুন।


More News Of This Category
এক ক্লিকে বিভাগের খবর