টুং টাং শব্দে ব্যস্ত কামার পল্লী

আদিতমারী (লালমনিরহাট):
ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশুর মাংস কাটার সরঞ্জাম তৈরির কাজে কামার পল্লীতে এখন যাচ্ছে ব্যস্ত সময়। লালমনিহাটের আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের শালমারা কামারপাড়া এলাকায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ৫০টি পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছে।
একমাত্র কামারের কাজ করে তারা পরিবারের জীবন-জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। দীর্ঘদিন ধরে এই পেশায় নিয়োজিত থেকে দিনরাত হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে থাকে। কামার পল্লীতে তারা লোহা পুড়িয়ে লাল করে হাতুড় দ্বারা পিটিয়ে ছুরি, দা, বটি ও চাপাতি তৈরি করে বিভিন্ন হাট-বাজারে বিক্রি করে থাকে।
বিশেষ করে প্রতি বছর ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে বাড়তি আয়ের আশায় দিনরাত পরিশ্রম করে থাকে। এজন্য কামারিরা ১মাস আগে থেকে কোরবানির পশুর মাংস কাটতে শতশত ছোট, বড় ছুরি, চাপাতি গরু জবাই ও মাংস কাটার জন্য মজুুদ করে রাখত। প্রতিটি বড় ছুরি ৭শত টাকা, ছোট ছুরি ২০ টাকা ও চাপাতি ৩শত টাকা পাইকারি দরে বিক্রি করা হত। তাদের তৈরি করা এসব সরঞ্জাম কিনতে দেশের বিভিন্ন জেলার পাইকাররা আসত। কিন্তু এবছর করোনায় সীমিত আকারে পরিবহনের কারণে পাইকাররা না আসায় বিক্রি একেবারেই কম হওয়ায় ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে তাদের।
ছাইদুল ইসলাম (৪৫) নামের কামার বলেন, ৩০ বছর ধরে কামারি কাজের সঙ্গে জড়িত আছি। সারা মৌসুমে হালকা কাজ করে কোন রকম দিনযাপন করে থাকি। বিশেষ করে প্রতি বছর ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশু জবাই ও মাংস তৈরি করতে ছোট, বড় চাকু, ছুরি ও চাপাতি তৈরি করে ঢাকা, চিটাগাংগসহ বিভিন্ন জেলা পাইকারদের নিকট বিক্রি করতে দিনরাত হাড়ভাঙা পরিশ্রম করতে হয়। এখন বাপ-বেটা মিলে দুজনে দৈনন্দিন প্রায় ২০টির মত চাকু ও ছুরি তৈরি করা যায় এবং বিক্রি করতে পারলে প্রায় ১২ শত টাকার মত আসে। গত বছর কোরবানির ঈদে দুই সপ্তাহ পরিশ্রম করে প্রায় ৫০ হাজার টাকার মতো রোজগার করেছিলাম। সেই আশায় এ বছর ২ শতাধিক ছুরি-চাপাতি তৈরি করা হয়েছে কিন্তু করোনার কারণে চাহিদা না থাকায় বাইরের জেলার পাইকার না আসায় এবার বিক্রির সংখ্যা কম।
একই এলাকার রতন মিয়া (২৫) নামের আরেক কামার একই কথা বলে জানান, গত বছর কোরবানির পশু কাটতে ছোট বড় চাকু, ছোরা ও চাপাতি বিক্রি করে প্রায় ৫০ হাজার টাকা উপার্জন করা হয়েছিল। সেই আশায় এ বছর শতাধিক এসব সরঞ্জাম মজুদ করা হয়েছে কিন্তু পাইকার নেই। এখন স্থানীয় হাটে বাজারে দু-একটা করে বিক্রি করা হচ্ছে।
তারা আরও জানান, করোনার সময় কোন কর্ম না থাকার কারণে তাদেরকে উপজেলা সমাজসেবা অফিসে প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে অনুদানের আশ্বাস প্রদান করা হয়েছিল। আজ অনেকদিন হয়ে গেল কিন্তু কোনো অনুদান এখন পর্যন্ত তাদের হাতে আসেনি। অবিলম্বে তাদের সেই অনুদান প্রদানের জন্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট দফতরের নিকট জোর দাবি জানান।
উপজেলা সমাজসেবা অফিসার রওশন আলী মন্ডল বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী কামারদের অনুদান সমাজ কল্যাণমন্ত্রীর নির্দেশনা পেলেই তাদের মাঝে প্রদান করা হবে ।