পার্বত্য চট্টগ্রামকে পিছনে ফেলে বাংলাদেশের উন্নয়ন হবে না: পার্বত্যমন্ত্রী
পার্বত্য চট্টগ্রামকে পিছনে ফেলে বাংলাদেশের উন্নয়ন সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন পার্বত্যমন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এমপি। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দুপুরে রাঙামাটিতে মারমা জনগোষ্ঠীর সাংগ্রাই জল উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
দীপেন দেওয়ান বলেন, ‘তিন পার্বত্য জেলার সুষম উন্নয়ন হবে। বাংলাদেশ যদি এগিয়ে যায়, তবে পার্বত্য চট্টগ্রামকেও এগিয়ে নিতে হবে। পার্বত্য চট্টগ্রামকে পিছনে ফেলে বাংলাদেশের উন্নয়ন হবে না এটা আমি বিশ্বাস করি। এজন্য আমাদের সহযোগিতার হাত বাড়াতে হবে।’
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামের ১৩টি জাতিগোষ্ঠী ঐতিহাসিকভাবে আবহমানকাল ধরে তাদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি রক্ষা করে আসছে। কিছু কিছু জনগোষ্ঠী অস্তিত্ব সংকটের মুখোমুখি। তাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ পার্বত্য মন্ত্রণালয় থেকে নেওয়া হবে।’
প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, ‘এই পাহাড়ের বৈচিত্র্যময় সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ও জীবনধারা আমরা যেমন পুরো বাংলাদেশে তুলে ধরতে চাই, তেমনি বিশ্বদরবারেও উপস্থাপন করতে চাই। আমাদের সরকার পার্বত্যবাসীদের সব ধর্ম, বর্ণ, গোত্র ও সম্প্রদায়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে।’
পার্বত্যমন্ত্রী উৎসবের উদ্বোধন ঘোষণা করে জল উৎসবের সূচনা করেন। এরপর থেকেই নানান আয়োজনে উৎসব চলতে থাকে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মারমা ভাষার গান ও নাচে ফুটে ওঠে তাদের জীবনবোধের নানা দিক।
বাংলা নববর্ষকে ঘিরে ঐতিহ্যবাহী সাংগ্রাই জল উৎসবে মেতে উঠেছেন পাহাড়ের মারমা জনগোষ্ঠীর তরুণ-তরুণীরা। ঐতিহ্যবাহী পোশাক ও বর্ণিল সাজে মুখোমুখি দুই দল তরুণ-তরুণী পরস্পরের গায়ে পানি ছিটিয়ে নতুন বছরকে বরণ করে।
সহস্র মুক্তোর মতো শুভ্র সেই পানির ধারা শরীরে আছড়ে পড়ে ধুয়ে মুছে দেয় পুরনো বছরের দুঃখ, গ্লানি, হতাশা ও অমঙ্গল। বিশ্বাস করা হয়, নতুন বছর বয়ে আনে সুখ, শান্তি ও কল্যাণ। আবহমানকাল ধরে পালিত এ উৎসব প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য বহন করে চলার বার্তা দিচ্ছে।
যাপিত জীবনের এই বিশেষ দিনে বর্ণিল পোশাক ও অলংকারে বাড়তি মনোযোগ দেখা যায়।
গ্রীষ্মের তীব্র তাপদাহের মধ্যেও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতিতে এ জল উৎসব সার্বজনীন রূপ নেয়। সাংস্কৃতিক ঐক্য ও সম্প্রীতি বৃদ্ধির প্রত্যাশা আয়োজক ও অংশগ্রহণকারীদের। যেখানে সব পঙ্কিলতা ও অমঙ্গল দূর হয়ে অংশগ্রহণকারীরা আগামীর সুখ ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।
তরুণী মেচিংহলা মারমা বলেন, ‘পানি ছিটিয়ে আমরা নতুন বছরকে বরণ করি। পুরনো বছরের দুঃখ, গ্লানি, হতাশা ও অমঙ্গল দূর হয়ে নতুন বছরে সুখ, শান্তি ও কল্যাণ আসবে এই বিশ্বাস থেকেই এটি করা হয়।’
আরেক তরুণী উনুচিং মারমা বলেন, ‘এই দিনটির জন্য আমরা সারা বছর অপেক্ষা করি। নতুন বছর বরণে সবাই খুব আনন্দ করি। প্রার্থনা করি, নতুন বছর যেন সুখ ও সমৃদ্ধি বয়ে আনে।’
মাসস-এর আহ্বায়ক পাইচিং মং মারমা বলেন, ‘এই আয়োজন আমাদের কৃষ্টি-সংস্কৃতির একটি অংশ। এর মাধ্যমে আমরা আমাদের কৃষ্টি-সংস্কৃতি ছড়িয়ে দিতে চাই। এতে সাংস্কৃতিক ঐক্য ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও মজবুত হবে।’
মাসসের আহ্বায়ক পাইচিং মং মারমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- রাঙামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী, জোন কমান্ডার লে. কর্নেল একরামুল রাহাত, পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আব্দুর রকিব এবং জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সাইফুল ইসলাম ভুট্টোসহ অন্যান্যরা।







