শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:০২ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
পার্বত্য চট্টগ্রামকে পিছনে ফেলে বাংলাদেশের উন্নয়ন হবে না: পার্বত্যমন্ত্রী পহেলা বৈশাখে ১০ জেলায় কৃষক কার্ড উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী সংসদ থেকে বিরোধী দলের ওয়াকআউট, কারণ জানালেন শফিকুর রহমান দেশে পর্যাপ্ত তেলের মজুত রয়েছে, বিভ্রান্তিকর তথ্যে কান না দেওয়ার আহ্বান সরকারের রাজধানীতে ঈদের জামাতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা থাকবে: ডিএমপি নীলসাগর এক্সপ্রেসের ৮ বগি লাইনচ্যুত, ঢাকা-উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগ বন্ধ বর্তমান সরকারের প্রথম মাসে সীমান্ত হত্যা শূন্য ঈদের নতুন পোশাক নিয়ে ফিরছিলেন বাড়ি, পথেই নিথর তিনজন ১১ বছর পর পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ ২৯ মার্চ পর্যন্ত সংসদ অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বাড়ছে দেশের রফতানি ঝুঁকি

ডেস্ক রিপোর্ট | ঢাকা টোয়েন্টিফোর- / ১৩০ পাঠক
প্রকাশকাল বুধবার, ১৮ মার্চ, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত বাংলাদেশের রফতানি বাণিজ্যে নতুন করে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে। আকাশসীমা বন্ধ হয়ে যাওয়া, হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক শিপিং খাতে অতিরিক্ত চার্জ আরোপের কারণে পণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে দেশের কৃষিপণ্য, তৈরি পোশাক ও হিমায়িত খাদ্যসহ বিভিন্ন খাতের রফতানিকারকরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈদেশিক বাণিজ্যে মারাত্মক চাপ তৈরি হতে পারে।
রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশ প্রায় আট কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। এসব পণ্যের মধ্যে ছিল সবজি, তৈরি পোশাক ও কৃষিভিত্তিক প্রক্রিয়াজাত খাদ্য। একই সময়ে ইরানে রপ্তানির পরিমাণ ছিল প্রায় পাঁচ লাখ ৩৯ হাজার ডলার। তবে দীর্ঘদিন ধরেই নিষেধাজ্ঞা ও ব্যাংকিং জটিলতার কারণে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য সীমিত।

বর্তমান সংঘাত শুরু হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের আকাশসীমা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রফতানি কার্যক্রমে তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়ে। বিমান চলাচল বন্ধ থাকায় ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে একদিনেই প্রায় ৮০ টন সবজি পাঠানো সম্ভব হয়নি। এতে কৃষি রপ্তানিকারকদের বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের মোট সবজি রপ্তানির প্রায় ৬০ শতাংশ মধ্যপ্রাচ্যে যায়, যা এই অঞ্চলের ওপর দেশের নির্ভরশীলতার চিত্র তুলে ধরে।

শুধু কৃষিপণ্য নয়, দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক শিল্পেও উদ্বেগ বাড়ছে। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি অচল হয়ে গেলে জ্বালানি সরবরাহের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। যেহেতু বাংলাদেশের প্রায় ৮৫ শতাংশ রপ্তানি আয় তৈরি পোশাক খাত থেকে আসে, তাই এই খাতের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এদিকে জ্বালানি সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। গ্যাসের স্বল্পতা ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে অনেক শিল্পকারখানাকে ডিজেলচালিত জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। কিন্তু বাজারে পর্যাপ্ত ডিজেল সরবরাহ না থাকায় উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রপ্তানি আদেশ অনুযায়ী পণ্য প্রস্তুত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

পরিবহন ব্যয়ও দ্রুত বাড়ছে। বর্তমানে একটি ৪০ ফুট কনটেইনার ইউরোপ বা যুক্তরাষ্ট্রে পাঠাতে প্রায় আড়াই হাজার ডলার খরচ হলেও যুদ্ধ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে তা সাড়ে চার হাজার ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

রফতানি পরিসংখ্যানও ইতোমধ্যে নেতিবাচক প্রবণতা দেখাচ্ছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে রফতানি আগের বছরের তুলনায় ৩ দশমিক ১৫ শতাংশ কমেছে, আর ফেব্রুয়ারিতে এই পতন ১২ শতাংশ ছাড়িয়েছে। এর পেছনে বৈশ্বিক বাণিজ্য উত্তেজনা ও শুল্ক নীতির প্রভাবও রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হলে বাংলাদেশের কৃষিপণ্য ও খাদ্যপণ্যের বাজার দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। একই সঙ্গে প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতিযোগিতাও বাড়ছে, যারা বিকল্প সমুদ্রপথে দ্রুত পণ্য পাঠাতে সক্ষম।

সামগ্রিকভাবে বলা যায়, আকাশ ও সমুদ্রপথে পরিবহন স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্য ঝুঁকির মধ্যেই থাকবে। পরিস্থিতি দ্রুত স্থিতিশীল না হলে দেশের অর্থনীতিতে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।


এই ক্যাটাগরির আরো খবর
এক ক্লিকে বিভাগের খবর