রোনালদোর রেকর্ডের রাতে পর্তুগালের গোল উৎসব
ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ড্র দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করেছিল পর্তুগাল। সেই ম্যাচে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পারফরম্যান্স নিয়ে হয়েছে সমালোচনা। তবে দ্বিতীয় ম্যাচেই জ্বলে উঠলেন তিনি। জোড়া গোলে রেকর্ড গড়ার পাশাপাশি দিলেন সমালোচনার জবাব। সুবাদে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে পর্তুগাল জিতল ৫-০ গোলে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) হিউস্টনের এনআরজি স্টেডিয়ামে উজবেকিস্তানকে রীতিমতো উড়িয়ে দিয়েছে রবার্তো মার্তিনেজের শিষ্যরা। পর্তুগালের হয়ে নুনো মেন্দেস ও রাফায়েল লিয়াও একটি করে গোল করেছেন। বাকি একটি গোল ছিল আত্মঘাতী।
উজবেকিস্তানের জাল খুঁজে নিয়ে রোনালদো সময় নেন মাত্র ৬ মিনিট। জোয়াও ক্যানসেলোর নিচু ক্রস থেকে প্রথম ছোঁয়াতেই শক্তিশালী শটে বল জালে জড়ান তিনি। তাতেই ৬ বিশ্বকাপে গোল করার অনন্য কীর্তি গড়েন পর্তুগিজ সুপারস্টার।
এরপর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন নুনো মেন্দেস। ১৭ মিনিটে ফ্রি-কিক পেয়ে পুরো স্টেডিয়াম যেন রোনালদোর আরেকটি জাদুকরী মুহূর্ত দেখায় অপেক্ষায় ছিল। বলের পেছনে দাঁড়িয়ে নিজের চিরচেনা ভঙ্গিতে বুক ফুলিয়ে প্রস্তুতিও নেন পর্তুগিজ অধিনায়ক। সবাই যখন রোনালদোর শটের অপেক্ষায়, ঠিক তখনই চমক দেন তিনি। শেষ মুহূর্তে বল ছেড়ে দেন রোনালদো, আর সুযোগটি লুফে নেন নুনো মেন্দেস। বাঁ পায়ের দুর্দান্ত নিচু শটে বল পাঠিয়ে দেন জালে।
ম্যাচের ৩০ মিনিটে উজবেকিস্তানের আজিজ গানিয়েভ গোল করেন। কিন্তু গোল করার আগে জোয়াও কানসেলোকে ফাউল করায় ভিএআরে গোলটি বাতিল হয়। এরপর গোল তো হয়নি উল্টো গোল হজম করে উজবেকিস্তান। ম্যাচের ৩৯ মিনিটে ব্রুনো ফার্নান্দেসের পাস থেকে ডান পায়ের নিখুঁত শটে গোলরক্ষক আবদুভোহিদ নেমাতভকে পরাস্ত করে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন রোনালদো। তাতেই বিশ্বকাপে পর্তুগালের জার্সিতে সর্বোচ্চ গোলের (১০) রেকর্ড গড়েন তিনি।
বিরতিতে যাওয়ার আগে হ্যাটট্রিক করার সুযোগ এসেছিল রোনালদোর সামনে। জোয়াও ক্যানসেলোর নিচু ক্রসে বল পেয়ে গোলরক্ষকের ওপর দিয়ে সূক্ষ্মভাবে টোকা দেন। কিন্তু বল গোললাইনে যাওয়ার আগেই তা ক্লিয়ার করেন আবদুকদির খুসানভ। ফলে হ্যাটট্রিকের আনন্দ থেকে বঞ্চিত থাকতে হয় রোনালদোকে। দ্বিতীয়ার্ধেও হ্যাটট্রিক করার মতো একাধিক সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু জালের দেখা পাননি তিনি।
ম্যাচের ৬০ মিনিটে পর্তুগালকে গোল উপহার দেন উজবেক গোলরক্ষক নেমাতভ। পর্তুগালের কর্নারটি নিচু গতিতে বক্সের ভেতরে আসে। সেখানে খেলোয়াড়দের জটলায় নিজেদের জালে বল জড়ায় উজবেকিস্তান। এরপর অবশ্য রোনালদোর একটি শট ঠেকিয়ে দেন নেমাতভ। ম্যাচের ৭৫ মিনিটে তার নেওয়া শট বক্সেই ঠেকিয়ে দেন রোনালদো। এরপর এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বাঁ পায়ে জোরালো শট নেন। নেমাতভ সেই শট ঠেকিয়ে দিয়ে রোনালদোকে হ্যাটট্রিক করতে দেননি।
ম্যাচের শেষের দিকে স্কোরশিটে নাম লেখান রাফায়েল লিয়াও। ম্যাচের ৮৭ মিনিটে নেলসন সেমেদোর ক্রস ঠেকিয়ে দেন উজবেক ডিফেন্ডার। কিন্তু তা ফাঁকায় পেয়ে যেন লিয়াও। সেখান থেকে ডান পায়ের শটে বল জালে জড়ান তিনি। ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার আগে আরও একবার সুযোগ পেয়েছিলেন রোনালদো। চেষ্টা করেও তা জালে জড়াতে পারেননি তিনি। তাতে শেষ পর্যন্ত ৫-০ গোলে জয় পায় পর্তুগাল।
দুই ম্যাচে এক জয় ও এক ড্রয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষে উঠে এসেছে পর্তুগাল। এক ম্যাচ কম খেলে ৩ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে কলম্বিয়া। এক পয়েন্ট তৃতীয় স্থানে ডিআর কঙ্গো। আর পয়েন্টশূন্য উজবেকিস্তান টেবিলের তলানিতে অবস্থান করছে। আজ সকালে গ্রুপের অন্য ম্যাচে মুখোমুখি হবে কলম্বিয়া ও কঙ্গো।







