আওয়ামী লীগ অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে, জনগণ তা গ্রহণ করবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
আওয়ামী লীগ দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তবে বাংলাদেশের মানুষ কখনোই সেই অপচেষ্টা গ্রহণ করবে না বলে মন্তব্য করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) দুপুরে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “কিসের হাসিনা? কোথায় বক্তব্য দিয়েছে? তার চেহারা কি দেখা গেছে? মাঝেমধ্যে শুধু আওয়াজ-টাওয়াজ শোনা যায়। তারা চেষ্টা করছে, বাংলাদেশে কোনো অস্থিরতা সৃষ্টি করা যায় কি না। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ কখনোই এসব গ্রহণ করবে না।”
তিনি বলেন, “যারা গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য দায়ী, তাদের কোনো অনুশোচনা নেই। তারা দেশের মানুষের কাছে ক্ষমাও চায়নি। তাই এ দেশে তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ বাংলাদেশের মানুষ কখনো দেবে না।”
সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, “তারা বিদেশ থেকে মাঝেমধ্যে উঁকিঝুঁকি দিতে পারে, চিৎকার-চেঁচামেচি করতে পারে। তবে আমরা এসবকে আর গুরুত্ব দিচ্ছি না।”
অপহরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “অপহরণসহ এ ধরনের অপরাধ দমনে প্রয়োজনীয় স্থানে সেনাবাহিনীর ক্যাম্প স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ বিষয়ে জিওসি পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবেন। সরকারিভাবেও প্রয়োজনীয় এলাকায় সেনা ক্যাম্প স্থাপনের অনুরোধ জানানো হবে। এতে অপহরণের মতো অপরাধ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে আশা করছি।”
এর আগে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক) ভবন পরিদর্শন ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রকৃতিকে সংরক্ষণ করেই কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন করতে হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “কক্সবাজারকে শুধু পর্যটন নগরী হিসেবে দেখলে হবে না। এখানকার সমুদ্রসম্পদ, ব্লু ইকোনোমি, গভীর সমুদ্রবন্দর এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলে দেশের অর্থনীতিতে কক্সবাজার বড় অবদান রাখতে পারবে। গভীর সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধানের অনুমতি দেওয়া হয়েছে এবং সমুদ্রসম্পদ আহরণের প্রচেষ্টা চলছে। পাশাপাশি কক্সবাজারে ব্লু ইকোনোমি ও মেরিন সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়াও এগিয়ে চলছে।”
পরে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ‘স্বপ্নচূড়া’ আবাসিক প্রকল্পের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “আগামী প্রজন্মের জন্য অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী বাংলাদেশ গড়ে তুলতে কক্সবাজারের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে। প্রকৃতিকে সংরক্ষণ করে পর্যটন অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে। শুধু উঁচু ভবন নির্মাণ করলেই পর্যটনের উন্নয়ন হয় না।”
তিনি আরও বলেন, “পুরো ১০০ কিলোমিটার সমুদ্রসৈকতকে পরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করার উদ্যোগ নিতে হবে। কক্সবাজারকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে পুরো জাতি এ জনপদ নিয়ে গর্ব করতে পারে।”
কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. জসিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, উখিয়া-টেকনাফ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মো. মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামীম আরা স্বপ্না, জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান, পুলিশ সুপার (এসপি) এ এন এম সাজেদুর রহমান, সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাবের, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সচিব সানজিদা বেগমসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।







