অস্ত্রসংকটে পেন্টাগন: ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দূরপাল্লার মিসাইল মজুত প্রায় শেষ
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র তাদের দূরপাল্লার নিখুঁত নিশানাভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদের প্রায় পুরোটাই ব্যবহার করে ফেলেছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) বিষয়টি সম্পর্কে সরাসরি অবগত দুটি সূত্রের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন বাহিনী তাদের ‘আর্মি ট্যাকটিক্যাল মিসাইল সিস্টেম’ এবং ‘প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল’-এর প্রায় সম্পূর্ণ মজুদ ব্যবহার করে ফেলেছে। ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ চলাকালে ওয়াশিংটন তাদের প্রায় সব দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র শেষ করে এনেছে বলে প্রথম প্রতিবেদন প্রকাশ করে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।
মার্কিন কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, প্রতিরক্ষামূলক পেট্রিয়ট এবং থাড (THAAD) ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের দ্রুত ব্যবহার এখন পেন্টাগনের জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অস্ত্র প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো যে গতিতে এগুলো নতুন করে তৈরি করতে পারছে, যুদ্ধক্ষেত্রে তার চেয়ে অনেক বেশি গতিতে এগুলো ব্যবহার হচ্ছে।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ’-এর জুলাই মাসের একটি প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বলা হয়- যুদ্ধ শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ২ হাজার ৩৩০টি পেট্রিয়ট ছিল, যা জুলাইয়ের শেষে কমে ৭৫৯ থেকে ৮২৭টিতে নেমে এসেছে। এবং ৪৫২টি থাডের মজুদ কমে এখন ২৩৪ থেকে ২৭৮টিতে দাঁড়িয়েছে।
গবেষকদের অনুমান, এই দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার প্রাক-যুদ্ধকালীন মজুদে ফিরে যেতে মার্কিন বাহিনীর অন্তত ২০২৯ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে।
তবে অস্ত্রসংকট সংক্রান্ত এসব প্রতিবেদন বা উদ্বেগকে উড়িয়ে দিয়েছেন পেন্টাগনের মূখ্য মুখপাত্র শন পার্নেল এবং মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ।
পেন্টাগনের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে দাবি করেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে নিজ দেশের স্বার্থ রক্ষায় পর্যাপ্ত সক্ষমতা তাদের রয়েছে।
এদিকে, হরমুজ প্রণালী ঘিরে চলমান কূটনৈতিক আলোচনার স্বার্থে ইরানে সাময়িক বিমান হামলা স্থগিত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ওয়াশিংটনের দেওয়া শর্তাবলী পূরণ করা না হলে ইরানে আবারও বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন তিনি।







